মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য: ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও ব্যাখ্যা সহ।
১. প্রশ্ন: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন কোনটি?
উত্তর: (খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা: চর্যাপদ প্রাচীন যুগের নিদর্শন, আর বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন।
২. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার এক গোয়ালঘর থেকে এই পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
৩. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা কে?
ব্যাখ্যা: কাব্যের ভণিতায় 'বড়ু চণ্ডীদাস' নাম পাওয়া যায়। তিনি আদি-মধ্যযুগের প্রতিনিধি।
৪. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র কয়টি?
ব্যাখ্যা: প্রধান চরিত্রগুলো হলো— কৃষ্ণ, রাধা এবং বড়াই।
৫. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কয়টি খণ্ড আছে?
ব্যাখ্যা: জন্মখণ্ড থেকে শুরু করে রাধাবিরহ পর্যন্ত মোট ১৩টি খণ্ড বিদ্যমান।
৬. প্রশ্ন: 'বড়ু চণ্ডীদাস' কোন পদবিধারী ছিলেন?
ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাসের প্রকৃত নাম ছিল অনন্ত বড়ু।
৭. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি উদ্ধার করা হয় কার গোয়ালঘর থেকে?
(খ) রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
(গ) হরিদাস পাল
(ঘ) বসন্তরঞ্জন রায়
৮. প্রশ্ন: অন্ধকার যুগের (১২০১-১৩৫০) সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
ব্যাখ্যা: রামাই পণ্ডিত রচিত শূন্যপুরাণ অন্ধকার যুগের একটি মিশ্র গদ্য-পদ্যের গ্রন্থ।
৯. প্রশ্ন: 'মৈথিল কোকিল' কাকে বলা হয়?
ব্যাখ্যা: মিথিলার অধিবাসী কবি বিদ্যাপতিকে তার কণ্ঠের মাধুর্যের জন্য 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
১০. প্রশ্ন: ব্রজবুলি ভাষা কী?
(খ) এক প্রকার কৃত্রিম মিশ্র ভাষা
(গ) মৈথিলী ভাষা
ব্যাখ্যা: মৈথিলী ও বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে এই ভাষার সৃষ্টি হয়েছে।
| কাব্যের নাম | আদি কবি | শ্রেষ্ঠ কবি | উপাধি/বৈশিষ্ট্য |
| মনসামঙ্গল | কানাহরি দত্ত | বিজয় গুপ্ত | প্রাচীনতম শাখা |
| চণ্ডীমঙ্গল | মানিক দত্ত | মুকুন্দরাম চক্রবর্তী | কবিকঙ্কণ উপাধি |
| অন্নদামঙ্গল | - | ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর | রায় গুণাকর উপাধি |
| ধর্মমঙ্গল | ময়ূর ভট্ট | ঘনরাম চক্রবর্তী | রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য |
মঙ্গলকাব্য শাখা: মনসা, চণ্ডী ও অন্নদামঙ্গল
১১. প্রশ্ন: মঙ্গলকাব্য ধারার প্রাচীনতম শাখা কোনটি?
(ক) চণ্ডীমঙ্গল (খ) মনসামঙ্গল
(গ) ধর্মমঙ্গল (ঘ) কালিকা মঙ্গল
উত্তর: (খ) মনসামঙ্গল
- ব্যাখ্যা: মঙ্গলকাব্যগুলোর মধ্যে মনসামঙ্গল কাব্যই প্রথম বা প্রাচীনতম হিসেবে স্বীকৃত। আনুমানিক ১৩শ-১৪শ শতাব্দী থেকে এই ধারার কাব্য রচনা শুরু হয়। সর্পদেবী মনসার মাহাত্ম্য ও তাঁর পূজা প্রচারই ছিল এই ধারার মূল উদ্দেশ্য।
১২. প্রশ্ন: মনসামঙ্গলের আদি কবি কে?
(ক) বিজয় গুপ্ত (খ) কানাহরি দত্ত
(গ) বংশীবদন (ঘ) নারায়ণ দেব
উত্তর: (খ) কানাহরি দত্ত
- ব্যাখ্যা: মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বা আদি কবি হলেন কানাহরি দত্ত। তাঁর কাব্যটি বর্তমানে সম্পূর্ণ পাওয়া যায় না। কবি বিজয় গুপ্ত তাঁর কাব্যে কানাহরি দত্তের অন্ধত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
১৩. প্রশ্ন: 'পদ্মপুরাণ' কার কাব্যের নাম?
(ক) বিজয় গুপ্ত (খ) বিপ্রদাস পিপিলাই
(গ) মুকুন্দরাম (ঘ) কৃত্তিবাস
উত্তর: (ক) বিজয় গুপ্ত
- ব্যাখ্যা: বরিশালের ফুলশ্রী গ্রামে জন্ম নেওয়া এই কবি তাঁর কাব্যের নাম দিয়েছিলেন 'পদ্মপুরাণ'। দেবী মনসার এক নাম 'পদ্মা', তাই তাঁর কাহিনী নিয়ে রচিত বলে এর নাম পদ্মপুরাণ। কবি নারায়ণ দেবও তাঁর কাব্যের নাম পদ্মপুরাণ দিয়েছিলেন।
১৪. প্রশ্ন: মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ চরিত্র কোনটি?
(ক) চাঁদ সদাগর (খ) বেহুলা
(গ) লখিন্দর (ঘ) মনসা
উত্তর: (খ) বেহুলা
- ব্যাখ্যা: বেহুলা বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী চরিত্র। তিনি তাঁর সতীত্ব, অদম্য সাহস ও একাগ্রতার মাধ্যমে মৃত স্বামীকে যমপুরী থেকে ফিরিয়ে এনে জীবিত করেন।
১৫. প্রশ্ন: চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
(ক) মানিক দত্ত (খ) দ্বিজ মাধব
(গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (ঘ) ভারতচন্দ্র
উত্তর: (গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- ব্যাখ্যা: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়। তিনি তাঁর কাব্যে দেবদেবীর বর্ণনার চেয়ে সমকালীন বাস্তব সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবনের গল্প (যেমন: ফুল্লরার দুঃখ) অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৬. প্রশ্ন: মধ্যযুগের কোন কবিকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেওয়া হয়েছে?
(ক) বিজয় গুপ্ত (খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(গ) ভারতচন্দ্র (ঘ) কৃত্তিবাস
উত্তর: (খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
- ব্যাখ্যা: চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর অসাধারণ কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে মেদিনীপুরের জমিদার রাজা রঘুনাথ রায় তাঁকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৭. প্রশ্ন: কালকেতু ও ফুল্লরা কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
(ক) মনসামঙ্গল (খ) চণ্ডীমঙ্গল
(গ) ধর্মমঙ্গল (ঘ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর: (খ) চণ্ডীমঙ্গল
- ব্যাখ্যা: চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম কাহিনী বা আখোটিক খণ্ডের নায়ক-নায়িকা হলেন কালকেতু ও ফুল্লরা। ব্যাধ কালকেতু দেবী চণ্ডীর আশীর্বাদে গুজরাট নগরের রাজা হয়েছিলেন।
১৮. প্রশ্ন: ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি কে?
(ক) ঘনরাম চক্রবর্তী (খ) রূপরাম চক্রবর্তী
(গ) খেলারাম (ঘ) সহদেব চক্রবর্তী
উত্তর: (ক) ঘনরাম চক্রবর্তী
- ব্যাখ্যা: ধর্মমঙ্গল কাব্যের অনেক কবির মধ্যে ঘনরাম চক্রবর্তী শ্রেষ্ঠ ও প্রধান কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীধর্মসংগীত'। এই কাব্যকে 'রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য' বলা হয়।
১৯. প্রশ্ন: মধ্যযুগের শেষ বড় কবি কে?
(ক) মুকুন্দরাম (খ) আলাওল
(গ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর (ঘ) দৌলত কাজী
উত্তর: (গ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
- ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ মহান কবি বলা হয়। ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটেছে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।
২০. প্রশ্ন: "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে" - পঙক্তিটি কার?
(ক) ঈশ্বরী পাটনী (খ) ভারতচন্দ্র
(গ) মুকুন্দরাম (ঘ) বিজয় গুপ্ত
উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
- ব্যাখ্যা: অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনী দেবী অন্নপূর্ণার কাছে এই প্রার্থনা করেন। এটি মূলত বাঙালির চিরকালীন সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনের চাওয়াকে প্রতিফলিত করে।
২১. প্রশ্ন: অন্নদামঙ্গল কাব্যটি কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
(ক) ২টি (খ) ৩টি
(গ) ৪টি (ঘ) ৫টি
উত্তর: (খ) ৩টি
- ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যটি তিনটি অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। ১. অন্নদামঙ্গল (শিব-পার্বতীর কাহিনী), ২. বিদ্যাসুন্দর (কালিকা মঙ্গল অংশ) এবং ৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান।
২২. প্রশ্ন: চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি কে?
(ক) মুকুন্দরাম (খ) মানিক দত্ত
(গ) দ্বিজ মাধব (ঘ) কৃত্তিবাস
উত্তর: (খ) মানিক দত্ত
- ব্যাখ্যা: চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রথম বা আদি রচয়িতা হলেন মানিক দত্ত। যদিও তাঁর কাব্যে কাব্যগুণের চেয়ে পৌরাণিক অলৌকিকতা বেশি ছিল।
২৩. প্রশ্ন: চাঁদ সদাগর চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন কাব্যে?
(ক) মনসামঙ্গল (খ) চণ্ডীমঙ্গল
(গ) ধর্মমঙ্গল (ঘ) কালিকা মঙ্গল
উত্তর: (ক) মনসামঙ্গল
- ব্যাখ্যা: চাঁদ সদাগর মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান ও বিদ্রোহী চরিত্র। তিনি শিবের উপাসক ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত দেবী মনসার আধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য হন। তাঁর দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এই কাব্যের প্রাণ।
২৪. প্রশ্ন: 'রায় গুণাকর' কার উপাধি?
(ক) মুকুন্দরাম (খ) ভারতচন্দ্র
(গ) আলাওল (ঘ) কাশীরাম দাস
উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র
- ব্যাখ্যা: নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় কবি ভারতচন্দ্রের অসাধারণ কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'রায় গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন।
২৫. প্রশ্ন: কালিকা মঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কাহিনী কোনটি?
(ক) বিদ্যাসুন্দর (খ) ফুল্লরা
(গ) লখিন্দর (ঘ) লাউসেন
উত্তর: (ক) বিদ্যাসুন্দর
- ব্যাখ্যা: কালিকা মঙ্গল কাব্যে দেবী কালিকার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়। এই ধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ উপাখ্যান হলো রাজকুমারী বিদ্যা এবং রাজকুমার সুন্দরের প্রেমের কাহিনী, যা ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি অংশ হিসেবেও জনপ্রিয়
| পদকর্তার নাম | পরিচিতি / উপাধি | বিশেষত্ব |
| বিদ্যাপতি | মৈথিল কোকিল, অভিনব জয়দেব | ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক |
| চণ্ডীদাস | মানবতার কবি | "সহজ মানুষ" তত্ত্বে বিশ্বাসী |
| গোবিন্দদাস | দ্বিতীয় বিদ্যাপতি | ভক্তি ও শিল্পের অপূর্ব সমন্বয় |
| জ্ঞানদাস | চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য | রূপানুরাগ ও মধুর রসের শ্রেষ্ঠ রূপকার |
| বলরাম দাস | বাৎসল্য রসের কবি | কৃষ্ণের শৈশব ও মায়ের স্নেহের পদ রচয়িতা |
বৈষ্ণব পদাবলী ও পদকর্তা
২৬. প্রশ্ন: বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি কে?
(ক) বিদ্যাপতি (খ) চণ্ডীদাস
(গ) বড়ু চণ্ডীদাস (ঘ) জয়দেব
উত্তর: (ক) বিদ্যাপতি
- ব্যাখ্যা: মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়। যদিও তিনি বাঙালি ছিলেন না, কিন্তু তাঁর ব্রজবুলি ভাষায় রচিত পদগুলো বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। তবে মনে রাখবেন, জয়দেব ছিলেন সংস্কৃত ভাষায় রাধাকৃষ্ণের পদ রচয়িতা আদি কবি।
২৭. প্রশ্ন: "সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" - উক্তিটি কার?
(ক) চণ্ডীদাস (খ) জ্ঞানদাস
(গ) গোবিন্দদাস (ঘ) বলরাম দাস
উত্তর: (ক) চণ্ডীদাস
- ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি চণ্ডীদাসের এই পঙক্তিটি মানবতার শ্রেষ্ঠতম বাণী হিসেবে পরিচিত। চণ্ডীদাসের পদে সহজ-সরল ভাষার মাধ্যমে গভীর মর্মস্পর্শী আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, যা তাঁকে 'মানবতাবাদী কবি' হিসেবে অমর করে রেখেছে।
২৮. প্রশ্ন: 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' কাকে বলা হয়?
(ক) গোবিন্দদাস (খ) জ্ঞানদাস
(গ) নরহরি দাস (ঘ) বলরাম দাস
উত্তর: (ক) গোবিন্দদাস
- ব্যাখ্যা: গোবিন্দদাস কবিরাজ ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনায় বিদ্যাপতির মতোই অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। বিদ্যাপতির শৈলী এবং ভাষার অনুকরণে অসাধারণ সব পদ রচনা করায় তাঁকে বৈষ্ণব সমাজে 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' বলা হয়।
২৯. প্রশ্ন: জ্ঞানদাস কোন রসের কবি ছিলেন?
(ক) সখ্য (খ) বাৎসল্য
(গ) মধুর (ঘ) শান্ত
উত্তর: (গ) মধুর
- ব্যাখ্যা: বৈষ্ণব পদাবলীতে পাঁচটি রসের মধ্যে 'মধুর রস' (রাধাকৃষ্ণের প্রেম) সবচেয়ে প্রধান। জ্ঞানদাস চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন এবং রাধাকৃষ্ণের রূপ ও প্রেমের বর্ণনায় (পূর্বরাগ ও অনুরাগ) তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাই তাঁকে মধুর রসের কবি বলা হয়।
৩০. প্রশ্ন: বিদ্যাপতি কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
(ক) গৌড় (খ) মিথিলা
(গ) আরাকান (ঘ) নবদ্বীপ
উত্তর: (খ) মিথিলা
- ব্যাখ্যা: বিদ্যাপতি ভারতের বিহারের মিথিলার কবি ছিলেন। তিনি রাজা শিবসিংহ এবং রানী লছিমা দেবীর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন। তিনি বাংলায় না লিখেও তাঁর 'ব্রজবুলি' ভাষার কারণে বাংলা সাহিত্যের অপরিহার্য অঙ্গে পরিণত হয়েছেন।
৩১. প্রশ্ন: 'অভিনব জয়দেব' কার উপাধি?
(ক) বিদ্যাপতি (খ) গোবিন্দদাস
(গ) চণ্ডীদাস (ঘ) জ্ঞানদাস
উত্তর: (ক) বিদ্যাপতি
- ব্যাখ্যা: সংস্কৃত কবি জয়দেবের 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যের মতো সুমধুর পদ রচনা করার কারণে বিদ্যাপতিকে 'অভিনব জয়দেব' (নতুন জয়দেব) উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে 'মৈথিল কোকিল'ও বলা হয়।
৩২. প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যদেবের জন্ম কত সালে?
(ক) ১৪৮০ (খ) ১৪৮৬ (গ) ১৫০০ (ঘ) ১৫৩৩
উত্তর: (খ) ১৪৮৬ সালে
- ব্যাখ্যা: বৈষ্ণব ধর্মের প্রাণপুরুষ শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আগমনের ফলেই বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে এক নতুন জোয়ার আসে। তাঁর প্রভাবেই মধ্যযুগকে 'চৈতন্য যুগ' বলা হয়।
৩৩. প্রশ্ন: চৈতন্য ভাগবতের রচয়িতা কে?
(ক) বৃন্দাবন দাস (খ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
(গ) লোচন দাস (ঘ) জয়ানন্দ
উত্তর: (ক) বৃন্দাবন দাস
- ব্যাখ্যা: বৃন্দাবন দাস ঠাকুর শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী কাব্য রচনা করেন, যার নাম 'চৈতন্য ভাগবত'। এটি চৈতন্যের জীবনের প্রথম পর্ব অর্থাৎ নবদ্বীপ লীলা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।
৩৪. প্রশ্ন: চৈতন্য চরিতামৃত কার রচনা?
(ক) কৃষ্ণদাস কবিরাজ (খ) বৃন্দাবন দাস
(গ) মুরারি গুপ্ত (ঘ) কবি কর্ণপুর
উত্তর: (ক) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
- ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য চরিতামৃত' শ্রীচৈতন্যদেবের শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে তথ্যবহুল জীবনী গ্রন্থ। এতে চৈতন্যের জীবনীর পাশাপাশি বৈষ্ণব ধর্মের গভীর দার্শনিক তত্ত্বগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৩৫. প্রশ্ন: বৈষ্ণব পদাবলীতে 'মধুর রস' বলতে কী বোঝায়?
(ক) ভক্তি (খ) প্রেম
(গ) সখ্য (ঘ) বাৎসল্য
উত্তর: (খ) প্রেম
- ব্যাখ্যা: বৈষ্ণব দর্শনে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের সম্পর্ককে বলা হয় 'মধুর রস'। এখানে ভক্ত নিজেকে রাধা বা গোপী মনে করে ঈশ্বরকে (কৃষ্ণ) প্রেমাস্পদ হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। এটি বৈষ্ণব রসতত্ত্বের সর্বোচ্চ স্তর।
অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ, মহাভারত ও অন্যান্য
৩৬. প্রশ্ন: রামায়ণের প্রথম বাঙালি অনুবাদক কে?
(ক) কৃত্তিবাস ওঝা (খ) কাশীরাম দাস
(গ) মালাধর বসু (ঘ) চন্দ্রাবতী
উত্তর: (ক) কৃত্তিবাস ওঝা
- ব্যাখ্যা: কৃত্তিবাস ওঝা ১৫শ শতাব্দীতে প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেন। তাঁর অনূদিত রামায়ণকে বলা হয় 'শ্রীরাম পাঁচালী'। এটি কেবল অনুবাদ ছিল না, বরং বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির রসে সিক্ত এক মৌলিক কাব্য হয়ে উঠেছিল। তাঁর কাব্যকে 'বাঙালির বাইবেল'ও বলা হয়।
৩৭. প্রশ্ন: মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
(ক) কাশীরাম দাস (খ) সঞ্জয়
(গ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর (ঘ) শ্রীকর নন্দী
উত্তর: (ক) কাশীরাম দাস
- ব্যাখ্যা: মহাভারতের অনেক অনুবাদক থাকলেও কাশীরাম দাসের অনুবাদটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী'। প্রবাদ আছে— "কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান, মহাভারতের কথা অমৃত সমান।"
৩৮. প্রশ্ন: কার উপাধি ছিল 'গুণরাজ খান'?
(ক) মালাধর বসু (খ) কৃত্তিবাস
(গ) ভারতচন্দ্র (ঘ) কাশীরাম দাস
উত্তর: (ক) মালাধর বসু
- ব্যাখ্যা: শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসুকে গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দীন বারবক শাহ 'গুণরাজ খান' উপাধিতে ভূষিত করেন। এটি ছিল কোনো হিন্দু কবির মুসলিম সুলতানের কাছ থেকে পাওয়া অন্যতম সম্মান।
৩৯. প্রশ্ন: মালাধর বসু রচিত কাব্যের নাম কী?
(ক) শ্রীকৃষ্ণবিজয় (খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্ত
(গ) পদুমাবত (ঘ) নবীবংশ
উত্তর: (ক) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
- ব্যাখ্যা: মালাধর বসু সংস্কৃত 'শ্রীমদ্ভগবত' পুরাণের ১০ম ও ১১শ স্কন্ধের ছায়াবলম্বনে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যটি রচনা করেন। এতে শ্রীকৃষ্ণের মর্ত্যে আগমনের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
(ক) চন্দ্রাবতী (খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
(গ) বেগম রোকেয়া (ঘ) সুফিয়া কামাল
উত্তর: (ক) চন্দ্রাবতী
- ব্যাখ্যা: ষোড়শ শতাব্দীর কবি চন্দ্রাবতীকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে ধরা হয়। তিনি কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা ছিলেন। তাঁর রচিত 'রামায়ণ' কাব্যটি নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনন্য, কারণ তিনি এতে সীতার দুঃখকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
৪১. প্রশ্ন: পরাগলী মহাভারত কার নির্দেশে রচিত হয়?
(ক) পরাগল খাঁ (খ) নসরত শাহ
(গ) হোসেন শাহ (ঘ) ছুটি খাঁ
উত্তর: (ক) পরাগল খাঁ
- ব্যাখ্যা: লস্কর পরাগল খাঁ ছিলেন চট্টগ্রামের শাসনকর্তা। তাঁর আদেশে এবং উৎসাহে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বাংলায় অনুবাদ করেন। লস্কর পরাগলের নামানুসারে এটি 'পরাগলী মহাভারত' নামে পরিচিত।
৪২. প্রশ্ন: 'পাণ্ডব বিজয়' মহাভারতের অনুবাদক কে?
(ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর (খ) কাশীরাম দাস
(গ) শ্রীকর নন্দী (ঘ) রামেশ্বর
উত্তর: (ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
- ব্যাখ্যা: কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত মহাভারতের সংক্ষিপ্ত অনুবাদটির নামই হলো 'পাণ্ডব বিজয়'। পরাগল খাঁর আদেশে রচিত হওয়ায় এর অন্য নাম 'পরাগলী মহাভারত'। এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাভারত অনুবাদ হিসেবে বিবেচিত।
৪৩. প্রশ্ন: ভগবত পুরাণ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
(ক) মালাধর বসু (খ) কৃত্তিবাস
(গ) রূপ গোস্বামী (ঘ) সনাতন গোস্বামী
উত্তর: (ক) মালাধর বসু
- ব্যাখ্যা: সংস্কৃত শ্রীমদ্ভগবত পুরাণের প্রথম সার্থক ও প্রধান অনুবাদক হলেন মালাধর বসু। তিনি ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সালের মধ্যে এটি অনুবাদ করেন। তাঁর এই অনুবাদের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে ভাগবত বা শ্রীকৃষ্ণ উপাখ্যানের ভিত্তি মজবুত হয়
| গ্রন্থের নাম | আদি অনুবাদক | শ্রেষ্ঠ অনুবাদক |
| রামায়ণ | কৃত্তিবাস ওঝা | কৃত্তিবাস ওঝা |
| মহাভারত | কবীন্দ্র পরমেশ্বর | কাশীরাম দাস |
| শ্রীমদ্ভগবত | মালাধর বসু | মালাধর বসু |
মুসলিম সাহিত্য ও আরাকান রাজসভা
৪৪. প্রশ্ন: মধ্যযুগের সবচেয়ে প্রতিভাবান মুসলিম কবি কে?
(ক) শাহ মুহম্মদ সগীর (খ) দৌলত কাজী (গ) আলাওল (ঘ) আব্দুল হাকিম
উত্তর: (গ) আলাওল
- ব্যাখ্যা: আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পাণ্ডিত্যে অতুলনীয় কবি। তিনি বহু ভাষা (আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, হিন্দি) জানতেন। তাঁর কাব্যে শিল্পশৈলী ও গভীর জীবনবোধের ছাপ পাওয়া যায়।
৪৫. প্রশ্ন: আলাওলের শ্রেষ্ঠ কীর্তি কোনটি?
(ক) তোহফা (খ) সপ্তপয়কর (গ) পদ্মাবতী (ঘ) সয়ফুল মুলুক
উত্তর: (গ) পদ্মাবতী
- ব্যাখ্যা: হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের ছায়াবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন। এটি একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
৪৬. প্রশ্ন: 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যটি কার লেখা?
(ক) শাহ মুহম্মদ সগীর (খ) আব্দুল হাকিম (গ) আলাওল (ঘ) ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর: (ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
- ব্যাখ্যা: সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে শাহ মুহম্মদ সগীর এই কাব্যটি রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হিসেবে বিবেচিত।
৪৭. প্রশ্ন: 'সতী ময়না ও লোরচন্দ্রনী' কার রচনা?
(ক) দৌলত কাজী (খ) আলাওল (গ) মগন ঠাকুর (ঘ) সৈয়দ সুলতান
উত্তর: (ক) দৌলত কাজী
- ব্যাখ্যা: আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী এটি রচনা করেন। তিনি কাব্যটি অসমাপ্ত রেখে মারা গেলে পরবর্তীতে আলাওল এটি শেষ করেন।
৪৮. প্রশ্ন: 'নূরনামা' কার কাব্য?
(ক) আব্দুল হাকিম (খ) শাহ মুহম্মদ সগীর (গ) সৈয়দ সুলতান (ঘ) বাহরাম খান
উত্তর: (ক) আব্দুল হাকিম
- ব্যাখ্যা: কবি আব্দুল হাকিম তাঁর বিখ্যাত 'নূরনামা' কাব্যের জন্য জনপ্রিয়। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন।
৪৯. প্রশ্ন: "যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/ সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি" - পঙক্তিটি কার?
(ক) আব্দুল হাকিম (খ) আলাওল (গ) শাহ মুহম্মদ সগীর (ঘ) দৌলত কাজী
উত্তর: (ক) আব্দুল হাকিম
- ব্যাখ্যা: এটি 'নূরনামা' কাব্যের অংশ। যারা বাংলাদেশে জন্মে বাংলা ভাষার অবজ্ঞা করে, তাদের প্রতি কবির তীব্র ক্ষোভ ও দেশপ্রেম এই পঙক্তিতে ফুটে উঠেছে।
৫০. প্রশ্ন: রোসাঙ্গ রাজসভা কোথায় অবস্থিত?
(ক) আরাকান (খ) চট্টগ্রাম (গ) ত্রিপুরা (ঘ) গৌড়
উত্তর: (ক) আরাকান
- ব্যাখ্যা: বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকেই মধ্যযুগে আরাকান বা রোসাঙ্গ বলা হতো। এই রাজসভার আনুকূল্যে মুসলিম কবিরা অনেক কালজয়ী বাংলা কাব্য রচনা করেন।
৫১. প্রশ্ন: 'নবীবংশ' কার রচনা?
(ক) সৈয়দ সুলতান (খ) আলাওল (গ) দৌলত কাজী (ঘ) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর: (ক) সৈয়দ সুলতান
- ব্যাখ্যা: সৈয়দ সুলতান রচিত 'নবীবংশ' একটি বিশাল ধর্মতত্ত্বীয় কাব্য। এতে নবীদের জীবনী এবং ইসলামের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
৫২. প্রশ্ন: 'লাইলি-মজনু' কাব্যের রচয়িতা কে?
(ক) দৌলত উজির বাহরাম খান (খ) আলাওল (গ) আব্দুল হাকিম (ঘ) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর: (ক) দৌলত উজির বাহরাম খান
- ব্যাখ্যা: ফারসি কবি নিজামী গঞ্জভীর কাব্যের অনুকরণে দৌলত উজির বাহরাম খান বাংলায় এই অমর প্রেমকাহিনী রচনা করেন।
৫৩. প্রশ্ন: 'সপ্তপয়কর' কাব্যের অনুবাদক কে?
(ক) আলাওল (খ) দৌলত কাজী (গ) সৈয়দ সুলতান (ঘ) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর: (ক) আলাওল
- ব্যাখ্যা: ফারসি কবি নিজামীর 'হপ্ত পয়কর' কাব্যের ভাবানুবাদ করেন আলাওল। এতে রাজা বাহরাম গুর ও সাত রাজকন্যার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
৫৪. প্রশ্ন: মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রাচীনতম কে?
(ক) শাহ মুহম্মদ সগীর (খ) আব্দুল হাকিম (গ) আলাওল (ঘ) দৌলত কাজী
উত্তর: (ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
- ব্যাখ্যা: চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর কবি শাহ মুহম্মদ সগীরই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারার সূচনা হয়।
৫৫. প্রশ্ন: 'কারবালা' নিয়ে কাব্য (জঙ্গনামা) লিখেছেন কে?
(ক) দৌলত উজির বাহরাম খান (খ) ফকির গরীবুল্লাহ (গ) আলাওল (ঘ) আব্দুল হাকিম
উত্তর: (খ) ফকির গরীবুল্লাহ
- ব্যাখ্যা: কারবালার শোকাবহ কাহিনী নিয়ে রচিত কাব্যকে 'জঙ্গনামা' বলা হয়। ফকির গরীবুল্লাহ ছিলেন দো-ভাষী পুঁথি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান রচয়িতা, যা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
| বিষয়ের নাম | উল্লেখযোগ্য কবি | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
| আদি মুসলিম কবি | শাহ মুহম্মদ সগীর | প্রথম রোমান্টিক কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' রচয়িতা। |
| আরাকান রাজসভা | দৌলত কাজী ও আলাওল | এই রাজসভার মাধ্যমেই মানবিক সাহিত্যের জোয়ার আসে। |
| ভাষা চেতনা | আব্দুল হাকিম | বাংলা ভাষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের জন্য অমর। |
| পুঁথি সাহিত্য | ফকির গরীবুল্লাহ | কারবালা ও বীরত্বগাথা (জঙ্গনামা) নিয়ে জনপ্রিয়। |
নাথ সাহিত্য ও লোকসাহিত্য
৫৬. প্রশ্ন: নাথ ধর্মের আদি নেতা কে?
(ক) মীননাথ (খ) গোরক্ষনাথ (গ) হাড়িফা (ঘ) কানফা
উত্তর: (ক) মীননাথ
- ব্যাখ্যা: নাথ ধর্ম একটি প্রাচীন ধর্মীয় সম্প্রদায় যারা যোগ সাধনার ওপর গুরুত্ব দেয়। এই ধর্মের আদি গুরু বা নেতা হলেন মীননাথ। তাঁকে নাথ সাহিত্যের প্রধান চরিত্রগুলোর অন্যতম এবং গোরক্ষনাথের গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়।
৫৭. প্রশ্ন: 'গোরক্ষ বিজয়' কাব্যের রচয়িতা কে?
(ক) শেখ ফয়জুল্লাহ (খ) মানিক দত্ত (গ) রামাই পণ্ডিত (ঘ) বংশীবদন
উত্তর: (ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
- ব্যাখ্যা: নাথ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কাব্য 'গোরক্ষ বিজয়'। এর রচয়িতা মধ্যযুগের মুসলিম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। এই কাব্যে গুরু মীননাথের নৈতিক পতন এবং তাঁর শিষ্য গোরক্ষনাথ কর্তৃক তাঁকে উদ্ধারের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এটি হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয়ের নিদর্শন।
(ক) চন্দ্রকুমার দে (খ) দীনেশচন্দ্র সেন (গ) আশুতোষ ভট্টাচার্য (ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
উত্তর: (ক) চন্দ্রকুমার দে
- ব্যাখ্যা: বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত পালাগানগুলো গ্রাম-গঞ্জ ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এই অমূল্য লোকসম্পদ হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
৫৯. প্রশ্ন: 'মহুয়া' পালাটি কার রচনা?
(ক) দ্বিজ কানাই (খ) মনসুর বয়াতি (গ) বংশীবদন (ঘ) চণ্ডীদাস
উত্তর: (ক) দ্বিজ কানাই
- ব্যাখ্যা: মৈমনসিংহ গীতিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রথম পালা হলো 'মহুয়া'। এই অমর প্রেমকাহিনীটি রচনা করেছেন লোককবি দ্বিজ কানাই। বেদে কন্যা মহুয়া এবং নদের চাঁদের ট্র্যাজিক প্রেম এই পালার মূল উপজীব্য।
৬০. প্রশ্ন: মৈমনসিংহ গীতিকার সম্পাদনা করেন কে?
(ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন (খ) আনিসুজ্জামান (গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (ঘ) মুনীর চৌধুরী
উত্তর: (ক) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
- ব্যাখ্যা: চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগৃহীত পালাগুলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২৩ সালে সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। তাঁর উদ্যোগেই মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বসাহিত্যের দরবারে পরিচিতি লাভ করে এবং এটি বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
| বিষয় | প্রধান ব্যক্তি | বিশেষ তথ্য |
| নাথ সাহিত্য | মীননাথ ও গোরক্ষনাথ | শিব উপাসক যোগী সম্প্রদায়ের সাহিত্য। |
| গোরক্ষ বিজয় | শেখ ফয়জুল্লাহ | নাথ সাহিত্যের প্রধান কাব্য। |
| মৈমনসিংহ গীতিকা | চন্দ্রকুমার দে (সংগ্রাহক) | সাধারণ মানুষের লোকজ প্রেমগাথা। |
| মৈমনসিংহ গীতিকা | দীনেশচন্দ্র সেন (সম্পাদক) | বিশ্বসাহিত্যে একে পরিচিত করান। |
| মহুয়া পালা | দ্বিজ কানাই | মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পালা। |
বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (৬১-১০০)
৬১. প্রশ্ন: শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ কবি কে?
৬২. প্রশ্ন: কবিগানের প্রথম প্রবর্তক কে?
৬৩. প্রশ্ন: 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' কাকে বলা হয়?
৬৪. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আসল নাম কী?
৬৫. প্রশ্ন: 'শূন্যপুরাণ' কোন শ্রেণীর রচনা?
৬৬. প্রশ্ন: 'দোভাষী পুথি' বলতে কী বোঝায়?
৬৭. প্রশ্ন: পুথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক কবি কে?
৬৮. প্রশ্ন: 'তোহফা' কাব্যটি কার অনুবাদ?
৬৯. প্রশ্ন: 'সয়ফুল মুলুক বদিউজ্জামান' কার রচনা?
৭০. প্রশ্ন: মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
৭১. প্রশ্ন: 'পদ্মাবতী' একটি—
৭২. প্রশ্ন: "কাই কাই গগনে ঘন ঘোর..." এই ভণিতাটি কোন কাব্যের?
৭৩. প্রশ্ন: মধ্যযুগের সাহিত্যে কোন ধর্মের প্রভাব বেশি ছিল?
৭৪. প্রশ্ন: 'টপ্পা' গানের জনক কে?
৭৫. প্রশ্ন: নাথ সাহিত্যের প্রধান কাহিনী কোনটি?
৭৬. প্রশ্ন: 'পরাগল খাঁ' কার পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন?
৭৭. প্রশ্ন: 'ছুটি খাঁ' কার পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন?
৭৮. প্রশ্ন: মধ্যযুগের কবিরা প্রধানত কীসের ওপর নির্ভর করে কাব্য লিখতেন?
৭৯. প্রশ্ন: 'মনসামঙ্গল' কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
৮০. প্রশ্ন: বিদ্যাপতিকে 'মৈথিল কোকিল' উপাধি দেন কে?
৮১. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথিতে মোট কতটি পদ আছে?
৮২. প্রশ্ন: চণ্ডীদাস মূলত কোন রসের কবি?
৮৩. প্রশ্ন: 'ব্রজবুলি' কোন স্থানে প্রচলিত ছিল না?
৮৪. প্রশ্ন: 'পদ্মাবতী' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনুদিত?
৮৫. প্রশ্ন: 'লাইলি-মজনু' মূলত কোন দেশের কাহিনী?
৮৬. প্রশ্ন: কোন সম্রাট শাহ মুহম্মদ সগীরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
৮৭. প্রশ্ন: 'নূরনামা' অর্থ কী?
৮৮. প্রশ্ন: 'বঙ্গবাণী' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
৮৯. প্রশ্ন: মধ্যযুগের কোন কবিকে 'পণ্ডিত' উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
৯০. প্রশ্ন: 'গোরক্ষ বিজয়' এর কাহিনী কী নিয়ে?
৯১. প্রশ্ন: 'মদিনা বিবি' কোন পালার নায়িকা?
৯২. প্রশ্ন: 'এন্টনি ফিরিঙ্গি' পেশায় কী ছিলেন?
৯৩. প্রশ্ন: 'রামপ্রসাদী' কীসের সাথে সম্পর্কিত?
৯৪. প্রশ্ন: 'ভারত পাঁচালী' আসলে কী?
৯৫. প্রশ্ন: চণ্ডীমঙ্গলের দুই নায়ক-নায়িকা কে কে?
৯৬. প্রশ্ন: মধ্যযুগের প্রথম ধর্মমূলক গীতি সাহিত্য কোনটি?
৯৭. প্রশ্ন: 'বিদ্যাপতি' কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
৯৮. প্রশ্ন: কোন সুলতানকে 'নৃপতি তিলক' বলা হয়?
৯৯. প্রশ্ন: 'রসুল বিজয়' কার রচনা?
১০০. প্রশ্ন: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পরিসমাপ্তি ঘটে কোন শতাব্দীর শেষে?
