...

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: ১৮০০-১৮৫০।। গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি MCQ।।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: ১৮০০-১৮৫০ (গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি MCQ)

আধুনিক বাংলা  সাহিত্য।। ১৮০০-১৮৫০।। গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি MCQ।।

ভূমিকা:বাংলা সাহিত্যের যাত্রা প্রাচীন যুগের চর্যাপদমধ্যযুগের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন থেকে শুরু হলেও এর আধুনিক ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৮০০-১৮৫০ সালের গদ্য চর্চায়। এই প্রস্তুতির পথ ধরেই আমরা পেয়েছি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম-এর মতো কালজয়ী সাহিত্যিকদের। একটি ভাষার শৈল্পিক বিকাশের জন্য যেমন প্রয়োজন উন্নত সাহিত্য, তেমনি প্রয়োজন সমাস, সন্ধি, বাগধারাদল ও বর্ণ-এর মতো মজবুত ব্যাকরণিক কাঠামো। আজকের আলোচনায় আমরা ১৮০০ থেকে ১৮৫০ সালের সেই ঐতিহাসিক প্রস্তুতি পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ১০০টি প্রশ্নোত্তর বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরব।

​ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও শ্রীরামপুর মিশন পর্ব

১. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

(ক) ১৭৯৯

(খ) ১৮০০

(গ) ১৮০১

(ঘ) ১৮০৫

উত্তর: (খ) ১৮০০

ব্যাখ্যা: লর্ড ওয়েলেসলি ৪ মে ১৮০০ সালে কলকাতায় এই কলেজ স্থাপন করেন। মূলত ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের এদেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ কবে চালু করা হয়?

(ক) ১৮০০

(খ) ১৮০১

(গ) ১৮০২

(ঘ) ১৮১০

উত্তর: (খ) ১৮০১

ব্যাখ্যা: ১৮০১ সালের ২৪ নভেম্বর উইলিয়াম কেরীকে প্রধান করে বাংলা বিভাগ খোলা হয়। কেরির অধীনে বেশ কয়েকজন পণ্ডিত বাংলা গদ্যচর্চায় নিযুক্ত হন।

৩. বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত বাংলা গদ্যগ্রন্থ কোনটি?

(ক) রাজাবলী

(খ) প্রতাপাদিত্য চরিত্র

(গ) লিপিমালা

(ঘ) তোতা ইতিহাস

উত্তর: (খ) প্রতাপাদিত্য চরিত্র

ব্যাখ্যা: ১৮০১ সালে রামরাম বসু এটি রচনা করেন। শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে এটি মুদ্রিত হয়। এটিই প্রথম কোনো বাঙালির লেখা মৌলিক গদ্যগ্রন্থ যা ইতিহাস আশ্রিত।

৪. 'কথোপকথন' (১৮০১) গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

(ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

(খ) রামরাম বসু

(গ) উইলিয়াম কেরি

(ঘ) চণ্ডীচরণ মুন্সী

উত্তর: (গ) উইলিয়াম কেরি

ব্যাখ্যা: এটি বাংলা গদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মুখের ভাষা বা সংলাপের মাধ্যমে এটি রচিত হয়েছে।

৫. 'লিপিমালা' (১৮০২) কার রচনা?

(ক) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়

(খ) রামরাম বসু

(গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

(ঘ) উইলিয়াম কেরি

উত্তর: (খ) রামরাম বসু

ব্যাখ্যা: এটি বিভিন্ন কাল্পনিক ও ঐতিহাসিক পত্রের একটি সংকলন। তৎকালীন দাপ্তরিক ভাষা ও সমাজচিত্র বুঝতে এই বইটি সহায়ক।

​রামমোহন রায় ও সমাজ সংস্কার যুগ

৬. রাজা রামমোহন রায়ের প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ কোনটি?

(ক) তুহফাতুল মুয়াহিদ্দীন

(খ) বেদান্ত সার

(গ) সহমরণ বিষয়

(ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ

উত্তর: (খ) বেদান্ত সার

ব্যাখ্যা: ১৮১৫ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে তিনি উপনিষদের সারমর্ম প্রচার করেন। এটি আধুনিক বাংলা গদ্যে যুক্তি ও দর্শনের সংযোগ ঘটায়।

৭. বাঙালির লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ কোনটি?

(ক) এ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ

(খ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ

(গ) শব্দামৃত

(ঘ) ভাষা প্রকাশ

উত্তর: (খ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ

ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় এটি রচনা করেন। ১৮৩৩ সালে এটি বাংলায় 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' নামে প্রকাশিত হয়।

৮. 'ব্রাহ্ম সভা' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

(ক) ১৮১৫

(খ) ১৮২৮

(গ) ১৮৩০

(ঘ) ১৮৪৩

উত্তর: (খ) ১৮২৮

ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় একেশ্বরবাদ প্রচারের জন্য ১৮২৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটিই 'ব্রাহ্ম সমাজ' নামে পরিচিতি পায়।

৯. সতীদাহ প্রথা বিলোপের পক্ষে রামমোহন রায়ের বিখ্যাত পুস্তিকা কোনটি?

(ক) প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ

(খ) পথ্য প্রদান

(গ) কায়স্থের বিধি

(ঘ) বজ সূচী

উত্তর: (ক) প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ

ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালে প্রকাশিত এই বইটিতে তিনি শাস্ত্রীয় যুক্তির মাধ্যমে সতীদাহ প্রথাকে অন্যায় এবং শাস্ত্রবিরোধী হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন।

১০. রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন কে?

(ক) লর্ড বেন্টিঙ্ক

(খ) দ্বিতীয় আকবর শাহ

(গ) লর্ড কার্জন

(ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম

উত্তর: (খ) দ্বিতীয় আকবর শাহ

ব্যাখ্যা: দিল্লির মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ সম্মানসূচক 'রাজা' উপাধি দিয়ে রামমোহন রায়কে বিলেত পাঠান।

​সাময়িকপত্র ও সাংবাদিকতার উন্মেষ

১১. বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্রের নাম কী?

(ক) সমাচার দর্পণ

(খ) দিগদর্শন

(গ) সংবাদ প্রভাকর

(ঘ) বঙ্গদূত

উত্তর: (খ) দিগদর্শন

ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালের এপ্রিলে শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। এটি মূলত একটি মাসিক পত্রিকা ছিল।

১২. প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?

(ক) দিগদর্শন

(খ) সমাচার দর্পণ

(গ) বেঙ্গল গেজেট

(ঘ) তত্ত্ববোধিনী

উত্তর: (খ) সমাচার দর্পণ

ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালের ২৩ মে এটি প্রকাশিত হয়। এটি বাংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

১৩. 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

(ক) রাজা রামমোহন রায়

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

(গ) অক্ষয় কুমার দত্ত

(ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র

উত্তর: (খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ব্যাখ্যা: ১৮৩১ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি ১৮৩৯ সালে বাংলার প্রথম 'দৈনিক' সংবাদপত্রে রূপান্তরিত হয়।

১৪. 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?

(ক) ১৮৩৯

(খ) ১৮৪০

(গ) ১৮৪৩

(ঘ) ১৮৫০

উত্তর: (গ) ১৮৪৩

ব্যাখ্যা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে এটি প্রকাশিত হয়। এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন অক্ষয় কুমার দত্ত।

১৫. প্রথম বাঙালি সম্পাদিত সংবাদপত্রের নাম কী?

(ক) সমাচার দর্পণ

(খ) সংবাদ কৌমুদী

(গ) বেঙ্গল গেজেট

(ঘ) সংবাদ প্রভাকর

উত্তর: (গ) বেঙ্গল গেজেট

ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। এটিই বাঙালির মালিকানাধীন প্রথম পত্রিকা।

​ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও গদ্যের আধুনিকায়ন

১৬. বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি কোন প্রতিষ্ঠান দিয়েছিল?

(ক) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

(খ) সংস্কৃত কলেজ

(গ) হিন্দু কলেজ

(ঘ) এশিয়াটিক সোসাইটি

উত্তর: (খ) সংস্কৃত কলেজ

ব্যাখ্যা: ১৮৩৯ সালে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি হিসেবে সংস্কৃত কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই উপাধি দেন।

১৭. বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার প্রথম কোন গ্রন্থে দেখা যায়?

(ক) বর্ণপরিচয়

(খ) সীতার বনবাস

(গ) বেতাল পঞ্চবিংশতি

(ঘ) কথামালা

উত্তর: (গ) বেতাল পঞ্চবিংশতি

ব্যাখ্যা: ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে বিদ্যাসাগর প্রথম কমা, সেমিকোলন এবং দাঁড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে গদ্যে শৃঙ্খলা আনেন।

১৮. 'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল'— এই বিখ্যাত পঙক্তিটি কার?

(ক) বিদ্যাসাগর

(খ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার

(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(ঘ) অক্ষয় কুমার দত্ত

উত্তর: (খ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার

ব্যাখ্যা: এটি তাঁর লেখা 'শিশুশিক্ষা' (প্রথম ভাগ) বইটির অন্তর্গত কবিতা। যা ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯. বিদ্যাসাগর রচিত 'জীবনচরিত' (১৮৪৯) কার অনুবাদ?

(ক) উইলিয়াম চেম্বার্সের

(খ) শেক্সপিয়রের

(গ) নিউটনের

(ঘ) মিল্টনের

উত্তর: (ক) উইলিয়াম চেম্বার্সের

ব্যাখ্যা: উইলিয়াম চেম্বার্সের 'Biography' গ্রন্থের অনুবাদ এটি। এতে বিজ্ঞানীদের জীবনী স্থান পেয়েছে।

২০. 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' কোন ভাষা থেকে অনূদিত?

(ক) সংস্কৃত

(খ) হিন্দি

(গ) ফারসি

(ঘ) প্রাকৃত

উত্তর: (খ) হিন্দি

ব্যাখ্যা: লল্লু লাল জীকৃত হিন্দি 'বৈতাল পচ্চীসী' থেকে বিদ্যাসাগর এটি অনুবাদ করেন।

সাময়িকপত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন

২১. 'বঙ্গদূত' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয় এবং এর বিশেষত্ব কী ছিল?

(ক) ১৮১৮; এটি প্রথম সাপ্তাহিক

(খ) ১৮২৯; এটি চার ভাষায় প্রকাশিত হতো

(গ) ১৮৩১; এটি প্রথম দৈনিক

(ঘ) ১৮৪৩; এটি বিজ্ঞান বিষয়ক

উত্তর: (খ) ১৮২৯; এটি চার ভাষায় প্রকাশিত হতো।

ব্যাখ্যা: ১৮২৯ সালে নীলরতন হালদারের সম্পাদনায় 'বঙ্গদূত' প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাটি বাংলা, ইংরেজি, ফারসি ও হিন্দি—এই চারটি ভাষায় মুদ্রিত হতো, যা তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত বিরল ছিল। রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এর সাথে যুক্ত ছিলেন।

২২. 'সমাচার চন্দ্রিকা' (১৮২২) পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

(ক) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

(খ) গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ

(গ) দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়

(ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র

উত্তর: (ক) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ব্যাখ্যা: ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে 'সংবাদ কৌমুদী'তে ছিলেন, কিন্তু রামমোহন রায়ের প্রগতিশীল চিন্তার সাথে মতবিরোধ হওয়ায় তিনি রক্ষণশীল হিন্দুদের পক্ষ নিয়ে 'সমাচার চন্দ্রিকা' প্রকাশ করেন। এটি সতীদাহ প্রথা বজায় রাখার পক্ষে কাজ করত।

২৩. ইয়াং বেঙ্গল (Young Bengal) গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পত্রিকা কোনটি?

(ক) সংবাদ প্রভাকর

(খ) জ্ঞানান্বেষণ

(গ) সমাচার দর্পণ

(ঘ) তত্ত্ববোধিনী

উত্তর: (খ) জ্ঞানান্বেষণ।

ব্যাখ্যা: ১৮৩১ সালে দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও রসিককৃষ্ণ মল্লিকের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। ডিরোজিওর শিষ্যরা এই পত্রিকার মাধ্যমে সমাজ সংস্কার এবং যুক্তিবাদী চিন্তাধারা প্রচার করতেন।

২৪. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্রের নাম কী?

(ক) সমাচার দর্পণ

(খ) সংবাদ কৌমুদী

(গ) সংবাদ প্রভাকর

(ঘ) সংবাদ ভাস্কর

উত্তর: (গ) সংবাদ প্রভাকর।

ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩১ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে শুরু হলেও, ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হতে থাকে। এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম দৈনিক পত্রিকা।

২৫. 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?

(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

(খ) অক্ষয় কুমার দত্ত

(গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন

উত্তর: (খ) অক্ষয় কুমার দত্ত।

ব্যাখ্যা: ১৮৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর সুযোগ্য সম্পাদক ছিলেন অক্ষয় কুমার দত্ত। তাঁর সম্পাদনায় পত্রিকাটি বিজ্ঞান, ইতিহাস ও দর্শনের এক বলিষ্ঠ মঞ্চে পরিণত হয়।

​গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও অনুবাদ সাহিত্য

২৬. 'তোতা ইতিহাস' (১৮০৫) গ্রন্থটি কোন ভাষা থেকে অনূদিত?

(ক) আরবি

(খ) ফারসি

(গ) ইংরেজি

(ঘ) হিন্দি

উত্তর: (খ) ফারসি।

ব্যাখ্যা: চণ্ডীচরণ মুন্সী ফারসি গ্রন্থ 'তুতিনামা' থেকে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে ভাষা শিখানোর জন্য এটি পাঠ্য করা হয়েছিল।

২৭. 'মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং' কার লেখা?

(ক) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়

(খ) রামরাম বসু

(গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

(ঘ) গোলকনাথ শর্মা

উত্তর: (ক) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়।

ব্যাখ্যা: ১৮০৫ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জীবনী নিয়ে লেখা। এটি বাংলা গদ্যে লেখা প্রথম দিকের একটি সার্থক জীবনীমূলক গ্রন্থ।

২৮. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শেষ পণ্ডিত হিসেবে পরিচিত কে?

(ক) তারাশঙ্কর তর্করত্ন

(খ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার

(গ) রামকমল সেন

(ঘ) প্যারীচরণ সরকার

উত্তর: (ক) তারাশঙ্কর তর্করত্ন।

ব্যাখ্যা: কলেজের শেষ পর্যায়ে তারাশঙ্কর তর্করত্ন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনসনের 'রাসেলস' (Rasselas) এর বাংলা অনুবাদ করেছিলেন।

২৯. 'বেদান্ত সার' (১৮১৫) গ্রন্থটি রাজা রামমোহন রায় কেন রচনা করেছিলেন?

(ক) গল্প বলার জন্য

(খ) উপনিষদের একেশ্বরবাদ প্রচারের জন্য

(গ) সরকারি আইন প্রচারের জন্য

(ঘ) শিশুদের ব্যাকরণ শেখাতে

উত্তর: (খ) উপনিষদের একেশ্বরবাদ প্রচারের জন্য।

ব্যাখ্যা: রামমোহন রায় বেদ ও উপনিষদের সারমর্ম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং মূর্তিপূজার অসারতা প্রমাণ করতে এটি বাংলায় অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেন।

৩০. 'শব্দকল্পদ্রুম' নামক বিশাল সংস্কৃত অভিধানটি কার পৃষ্ঠপোষকতায় সঙ্কলিত হয়?

(ক) রাজা রাধাকান্ত দেব

(খ) দ্বারকানাথ ঠাকুর

(গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর

(ঘ) রাজেন্দ্রলাল মিত্র

উত্তর: (ক) রাজা রাধাকান্ত দেব।

ব্যাখ্যা: রাজা রাধাকান্ত দেব ছিলেন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা। তিনি দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় করে বহু পণ্ডিতের সাহায্যে এই আট খণ্ডের অভিধানটি তৈরি করান, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছিল।

​বিদ্যাসাগর ও গদ্যের উত্তরণ

৩১. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন?

(ক) ১৮৩৭

(খ) ১৮৩৯

(গ) ১৮৪১

(ঘ) ১৮৪৭

উত্তর: (খ) ১৮৩৯।

ব্যাখ্যা: ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে এক কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে এই সম্মানজনক উপাধি প্রদান করা হয়।

৩২. বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কোনটি?

(ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি

(খ) শকুন্তলা

(গ) বাসুদেব চরিত

(ঘ) জীবনচরিত

উত্তর: (ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি।

ব্যাখ্যা: যদিও তাঁর প্রথম লেখা বই 'বাসুদেব চরিত', কিন্তু সেটি মুদ্রিত হয়নি। ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' তাঁর প্রথম মুদ্রিত এবং বাংলা গদ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।

৩৩. বাংলা গদ্যে যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্নের সার্থক ব্যবহারের কারণে বিদ্যাসাগরকে কী বলা হয়?

(ক) গদ্যের জনক

(খ) সাহিত্যের সম্রাট

(গ) কাব্য বিশারদ

(ঘ) যুগান্তকারী কবি

উত্তর: (ক) গদ্যের জনক।

ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য ছিল বিশৃঙ্খল। তিনিই প্রথম যতিচিহ্নের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে গদ্যকে শ্রুতিমধুর ও সুশৃঙ্খল করেন, তাই তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

৩৪. 'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল'— এই কবিতাটি কোন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত?

(ক) বর্ণপরিচয়

(খ) শিশুশিক্ষা

(গ) কথামালা

(ঘ) বোধোদয়

উত্তর: (খ) শিশুশিক্ষা।

ব্যাখ্যা: ১৮৪৯ সালে মদনমোহন তর্কালঙ্কার 'শিশুশিক্ষা' নামক একটি ধারাবাহিক পাঠ্যবই প্রকাশ করেন। এই বিখ্যাত পঙক্তিটি সেই বইয়ের প্রথম ভাগের 'প্রভাতী' কবিতার অংশ।

৩৫. 'ভ্রমর' নামক সাময়িকপত্রটি ১৮৫০-এর দিকে কার সাথে সম্পর্কিত ছিল?

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

(খ) প্যারীচাঁদ মিত্র

(গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

(ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উত্তর: (ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা: ১৮৫০ সালের দিকে সংবাদ প্রভাকরের পাশাপাশি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'ভ্রমর' নামক একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি সমকালীন সমাজ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতেন।

​শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার

৩৬. হিন্দু কলেজ (১৮১৭) প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

(ক) সংস্কৃত চর্চা

(খ) ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান বিস্তার

(গ) সরকারি কেরানি তৈরি

(ঘ) খ্রিস্টধর্ম প্রচার

উত্তর: (খ) ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান বিস্তার।

ব্যাখ্যা: ডেভিড হেয়ার এবং রাজা রামমোহন রায়ের প্রেরণায় তৎকালীন বাঙালি অভিজাতরা এটি প্রতিষ্ঠা করেন যাতে তরুণ প্রজন্ম আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা লাভ করতে পারে।

৩৭. ১৮৩৭ সালে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ফারসির পরিবর্তে কোন ভাষা প্রবর্তিত হয়?

(ক) শুধু ইংরেজি

(খ) ইংরেজি ও বাংলা

(গ) শুধু হিন্দি

(ঘ) সংস্কৃত ও আরবি

উত্তর: (খ) ইংরেজি ও বাংলা।

ব্যাখ্যা: ১৮৩৭ সালে ব্রিটিশ সরকার আইন করে ফারসি ভাষাকে সরিয়ে সরকারি দাপ্তরিক কাজ এবং আদালতের ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও দেশীয় ভাষার (বাংলা) ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এর ফলে বাংলা গদ্যের গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

৩৮. 'স্কুল বুক সোসাইটি' (১৮১৭) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

(ক) বই বিক্রির জন্য

(খ) বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ ও প্রচারের জন্য

(গ) শিক্ষকদের বেতন দিতে

(ঘ) মন্দির তৈরি করতে

উত্তর: (খ) বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ ও প্রচারের জন্য।

ব্যাখ্যা: ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য ও উন্নত মানের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল।

৩৯. 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের নেতা হেনরি ডিরোজিও কোন কলেজের শিক্ষক ছিলেন?

(ক) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

(খ) হিন্দু কলেজ

(গ) সংস্কৃত কলেজ

(ঘ) প্রেসিডেন্সি কলেজ

উত্তর: (খ) হিন্দু কলেজ।

ব্যাখ্যা: ডিরোজিও ১৮২৬ সালে হিন্দু কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর অবাধ চিন্তা ও যুক্তিবাদী দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্ররা একটি নতুন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখে।

৪০. 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকাটির মূল স্লোগান বা লক্ষ্য কী ছিল?

(ক) ধর্ম রক্ষা করা

(খ) জ্ঞান অনুসন্ধান ও কুসংস্কার দূর করা

(গ) ব্রিটিশদের প্রশংসা করা

(ঘ) কবিতা চর্চা করা

উত্তর: (খ) জ্ঞান অনুসন্ধান ও কুসংস্কার দূর করা।

ব্যাখ্যা: পত্রিকাটির নামের মধ্যেই এর উদ্দেশ্য নিহিত ছিল। এটি যুক্তির আলোয় হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের সমালোচনা করত এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করত।

অক্ষয় কুমার দত্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক গদ্য

৪১. অক্ষয় কুমার দত্তের প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'বাহ্যবস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ' কত সালে প্রকাশিত হয়?

(ক) ১৮৪৭

(খ) ১৮৫১

(গ) ১৮৫২

(ঘ) ১৮৫৫

উত্তর: (গ) ১৮৫২।

ব্যাখ্যা: অক্ষয় কুমার দত্ত ছিলেন বাংলা গদ্যে বিজ্ঞান ও যুক্তিধর্মী প্রবন্ধ রচনার পথিকৃৎ। ১৮৫২ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে তিনি মানুষের প্রকৃতির সাথে বাহ্যিক জগতের সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন।

৪২. 'চারুপাঠ' (১৮৫৩) গ্রন্থটি কার রচনা?

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(খ) অক্ষয় কুমার দত্ত

(গ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার

(ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র

উত্তর: (খ) অক্ষয় কুমার দত্ত।

ব্যাখ্যা: এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও নীতিশিক্ষামূলক পাঠ্যবই ছিল। সহজ ভাষায় কঠিন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে এটি একটি অনন্য উদাহরণ।

৪৩. অক্ষয় কুমার দত্তের গদ্যরীতিকে কী বলা হয়?

(ক) অলঙ্কারপ্রধান

(খ) যুক্তিনিষ্ঠ ও বিজ্ঞানমনস্ক

(গ) আবেগপ্রবণ

(ঘ) সংস্কৃতঘেঁষা

উত্তর: (খ) যুক্তিনিষ্ঠ ও বিজ্ঞানমনস্ক।

ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগর যখন গদ্যে লালিত্য আনছিলেন, অক্ষয় কুমার দত্ত তখন গদ্যকে তথ্যের ভার বহনের উপযোগী করে তুলছিলেন। তাঁর লেখায় আবেগের চেয়ে যুক্তির প্রাধান্য বেশি ছিল।

​সাময়িকপত্র ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

৪৪. 'সর্বশুভকরী' পত্রিকা (১৮৫০) কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?

(ক) মতিলাল চট্টোপাধ্যায়

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

(ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন

উত্তর: (ক) মতিলাল চট্টোপাধ্যায়।

ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কারের উৎসাহে এটি প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকায় বিদ্যাসাগর তাঁর বিখ্যাত 'বাল্যবিবাহের দোষ' নামক প্রবন্ধটি লিখেছিলেন।

৪৫. 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

(ক) ১৮৩৬

(খ) ১৮৪০

(গ) ১৮৪৩

(ঘ) ১৮৫০

উত্তর: (ক) ১৮৩৬।

ব্যাখ্যা: এটি বাঙালিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। বাংলা ভাষার চর্চা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

৪৬. 'বেঙ্গল স্পেক্টেটর' (১৮৪২) পত্রিকাটির সাথে কে যুক্ত ছিলেন?

(ক) প্যারীচাঁদ মিত্র

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

(গ) রামমোহন রায়

(ঘ) হেনরি ডিরোজিও

উত্তর: (ক) প্যারীচাঁদ মিত্র।

ব্যাখ্যা: এটি ইয়াং বেঙ্গল গোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। এটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) ছিল এবং সমাজ সংস্কারে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

​অনুবাদ ও বিবিধ সাহিত্য (১৮০০-১৮৫০)

৪৭. 'বচন সংগ্রহ' (১৮৪৯) নামক প্রবাদ-প্রবচনের সংকলনটি কে প্রকাশ করেন?

(ক) রেভারেন্ড জেমস লং

(খ) উইলিয়াম কেরি

(গ) মার্শম্যান

(ঘ) ডেভিড হেয়ার

উত্তর: (ক) রেভারেন্ড জেমস লং।

ব্যাখ্যা: জেমস লং ছিলেন একজন ভারতপ্রেমী পাদ্রি। তিনি বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী হয়ে প্রায় ৫০০০ বাংলা প্রবাদ সংগ্রহ করে এই বইটি প্রকাশ করেন।

৪৮. 'শকুন্তলা' (১৮৫৪) গদ্যগ্রন্থটি বিদ্যাসাগর কোন কবির নাটক থেকে অনুবাদ করেন?

(ক) ভবভূতি

(খ) কালিদাস

(গ) মাঘ

(ঘ) জয়দেব

উত্তর: (খ) কালিদাস।

ব্যাখ্যা: মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকটির কাহিনী অবলম্বনে বিদ্যাসাগর অত্যন্ত চমৎকার ও লালিত্যময় ভাষায় এটি বাংলায় গদ্যে রূপান্তর করেন।

৪৯. 'হিতোপদেশ' (১৮২১) অনুবাদক তারিণীচরণ মিত্র ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কোন পদে ছিলেন?

(ক) প্রধান পণ্ডিত

(খ) সহকারী পণ্ডিত

(গ) ইংরেজি শিক্ষক

(ঘ) হিসাবরক্ষক

উত্তর: (খ) সহকারী পণ্ডিত।

ব্যাখ্যা: তারিণীচরণ মিত্র ছিলেন কলেজের হিন্দুস্তানি ও বাংলা বিভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদক। তিনি ১৮২১ সালে 'হিতোপদেশ' এর অনুবাদ সম্পন্ন করেন।

৫০. ১৮৫০ সালের আগে বাংলা সাহিত্যের প্রধান কাব্যধারা কোনটি ছিল?

(ক) আধুনিক গীতিকবিতা

(খ) মঙ্গলকাব্য ও কবিগান

(গ) মহাকাব্য

(ঘ) গদ্য কবিতা

উত্তর: (খ) মঙ্গলকাব্য ও কবিগান।

ব্যাখ্যা: ১৮৫০ সাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার জন্ম হয়নি। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের মাধ্যমে প্রাচীন ধারাটি আধুনিকতার দিকে মোড় নিতে শুরু করেছিল।

​ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের উত্তরকাল ও শিক্ষা

৫১. 'বোধোদয়' (১৮৫০) গ্রন্থটি বিদ্যাসাগর কেন লিখেছিলেন?

(ক) উপন্যাসের স্বাদ দিতে

(খ) শিশুদের প্রাথমিক সাধারণ জ্ঞান ও নীতিশিক্ষা দিতে

(গ) ব্যাকরণ শেখাতে

(ঘ) ধর্ম প্রচার করতে

উত্তর: (খ) শিশুদের প্রাথমিক সাধারণ জ্ঞান ও নীতিশিক্ষা দিতে।

ব্যাখ্যা: চেম্বার্সের 'Rudiments of Knowledge' অবলম্বনে এটি রচিত। এটি শিশুদের বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান দান করার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পাঠ্যবই ছিল।

৫২. 'শব্দামৃত' (১৮৫০) ব্যাকরণ গ্রন্থটি কার লেখা?

(ক) প্যারীচাঁদ মিত্র

(খ) রাধাকান্ত দেব

(গ) নরোত্তম দাস

(ঘ) অক্ষয় কুমার দত্ত

উত্তর: (খ) রাধাকান্ত দেব।

ব্যাখ্যা: রাজা রাধাকান্ত দেব শুধু 'শব্দকল্পদ্রুম' নয়, বাংলা ভাষার প্রসারে ব্যাকরণ ও শিক্ষা বিষয়ক আরও অনেক গ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলেন।

৫৩. 'বেথুন স্কুল' (১৮৪৯) কার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয়?

(ক) জে.ই.ডি বেথুন ও বিদ্যাসাগর

(খ) রামমোহন রায় ও ডেভিড হেয়ার

(গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

(ঘ) কেশবচন্দ্র সেন

উত্তর: (ক) জে.ই.ডি বেথুন ও বিদ্যাসাগর।

ব্যাখ্যা: ৭ মে ১৮৪৯ সালে নারী শিক্ষার প্রসারে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যাসাগর এই স্কুলের প্রথম অবৈতনিক সম্পাদক ছিলেন।

৫৪. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম দিকের গদ্যে কোন ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল?

(ক) ফারসি ও আরবি

(খ) ইংরেজি

(গ) সংস্কৃত

(ঘ) পর্তুগিজ

উত্তর: (গ) সংস্কৃত।

ব্যাখ্যা: কলেজের পণ্ডিতরা বেশিরভাগই সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ ছিলেন। তাই তাঁদের লেখা প্রথম দিকের বাংলা গদ্যে সংস্কৃত তৎসম শব্দের আধিক্য ছিল।

​ব্যক্তিত্ব ও যুগসন্ধিক্ষণ

৫৫. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে কেন 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়?

(ক) তিনি ১৮০০ সালে জন্মেছিলেন বলে

(খ) তাঁর কাব্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সমন্বয় ঘটেছে বলে

(গ) তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের কবি ছিলেন বলে

(ঘ) তিনি অনেকগুলো পত্রিকা সম্পাদনা করতেন বলে

উত্তর: (খ) তাঁর কাব্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সমন্বয় ঘটেছে বলে।

ব্যাখ্যা: তিনি একদিকে মধ্যযুগের পয়ার ও অলঙ্কার ব্যবহার করতেন, অন্যদিকে তাঁর বিষয়বস্তু ছিল আধুনিক সমাজ, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও স্বদেশপ্রেম।

৫৬. 'পাখি সব করে রব' পঙক্তিটির রচয়িতা মদনমোহন তর্কালঙ্কার বিদ্যাসাগরের কে ছিলেন?

(ক) শিক্ষক

(খ) বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী

(গ) কনিষ্ঠ ভ্রাতা

(ঘ) ঘোর বিরোধী

উত্তর: (খ) বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী।

ব্যাখ্যা: তাঁরা দুজনই সংস্কৃত কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং পরবর্তী জীবনে সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা প্রসারে একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

৫৭. 'সারসংগ্রহ' (১৮৩৩) নামক গ্রন্থটি কার প্রথম উল্লেখযোগ্য রচনা?

(ক) রাজা রামমোহন রায়

(খ) অক্ষয় কুমার দত্ত

(গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র

উত্তর: (খ) অক্ষয় কুমার দত্ত।

ব্যাখ্যা: এটি তাঁর যৌবনের লেখা একটি গ্রন্থ যেখানে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন তথ্য সংকলন করেছিলেন।

৫৮. রাজা রামমোহন রায় কোন নদী পার হয়ে বিলেত যাত্রা করেছিলেন?

(ক) সিন্ধু নদী

(খ) আটলান্টিক মহাসাগর

(গ) গঙ্গা নদী

(ঘ) কালা জল (সমুদ্র)

উত্তর: (ঘ) কালা জল (সমুদ্র)।

ব্যাখ্যা: তৎকালীন হিন্দু সমাজে সমুদ্র যাত্রা বা কালা জল পাড়ি দেওয়া ছিল ধর্মবিরোধী। রামমোহন সেই সংস্কার ভেঙে ১৮৩০ সালে বিলেত যাত্রা করেন।

৫৯. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত প্রথম সার্থক বাংলা মানচিত্র কবে প্রকাশিত হয়?

(ক) ১৮১০

(খ) ১৮১৮

(গ) ১৮২৫

(ঘ) ১৮৩২

উত্তর: (খ) ১৮১৮।

ব্যাখ্যা: শিক্ষা প্রসারের অংশ হিসেবে মার্শম্যান ও কেরি বাংলা ভাষায় প্রথম বিজ্ঞানসম্মত মানচিত্র মুদ্রণ করেন।

৬০. ১৮৫০ সালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের কোন পর্বের শেষ সময় বলা হয়?

(ক) অন্ধকার যুগ

(খ) শৈশব বা প্রস্তুতি পর্ব

(গ) স্বর্ণযুগ

(ঘ) রবীন্দ্র যুগ

উত্তর: (খ) শৈশব বা প্রস্তুতি পর্ব।

ব্যাখ্যা: ১৮০০-১৮৫০ পর্যন্ত সময়কাল ছিল মূলত গদ্যের গঠন ও অনুবাদের সময়। ১৮৫১ সাল থেকে (বিশেষ করে মধুসূদন ও বঙ্কিমের আবির্ভাবের পর) আধুনিক সাহিত্যের সমৃদ্ধ ধারা শুরু হয়।

সামাজিক সংস্কার ও গদ্যের বিবর্তন

৬১. 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা গদ্যে কোন নতুন বৈশিষ্ট্যের সূচনা হয়?

(ক) উপন্যাসের কাঠামো

(খ) যতিচিহ্ন ও ছন্দময় গদ্যরীতি

(গ) নাটকের সংলাপ

(ঘ) অতিলৌকিক কাহিনী

উত্তর: (খ) যতিচিহ্ন ও ছন্দময় গদ্যরীতি।

ব্যাখ্যা: বিদ্যাসাগর এই গ্রন্থে প্রথম কমা, সেমিকোলন এবং দাঁড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে গদ্যকে শ্রুতিমধুর ও সুশৃঙ্খল করেন। একেই বলা হয় গদ্যের প্রথম সার্থক শিল্পরূপ।

৬২. 'বিধবার বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না' (১৮৫৫) প্রবন্ধটি কোন পটভূমিতে লেখা?

(ক) ধর্মীয় বিতর্ক

(খ) সামাজিক কুসংস্কার ও বিধবা নিগ্রহ

(গ) ইংরেজি শিক্ষা বিস্তার

(ঘ) রাজনৈতিক সচেতনতা

উত্তর: (খ) সামাজিক কুসংস্কার ও বিধবা নিগ্রহ।

ব্যাখ্যা: যদিও এটি ১৮৫৫ সালে প্রকাশিত, এর গবেষণা ও প্রস্তুতি ১৮৫০-এর আগে থেকেই শুরু করেছিলেন বিদ্যাসাগর। এটি বাঙালির সমাজ চিন্তা ও গদ্যের একটি শক্তিশালী রূপ।

৬৩. 'কথামালা' (১৮৫৬) গ্রন্থটি বিদ্যাসাগর কার গল্প অবলম্বনে রচনা করেন?

(ক) ঈসপ

(খ) লা ফন্টেইন

(গ) বিষ্ণুশর্মা

(ঘ) হ্যান্স অ্যান্ডারসন

উত্তর: (ক) ঈসপ।

ব্যাখ্যা: গ্রিক নীতিগল্পকার ঈসপের (Aesop's Fables) গল্পগুলোকে সহজ ও সরল বাংলা গদ্যে অনুবাদ করে তিনি শিশুদের উপযোগী করে তৈরি করেন।

​সাময়িকপত্র ও বিবিধ ব্যক্তিত্ব

৬৪. 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিত্বের মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

(ক) রোমান্টিকতা

(খ) ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমাজ সচেতনতা

(গ) আধ্যাত্মিকতা

(ঘ) করুণ রস

উত্তর: (খ) ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমাজ সচেতনতা।

ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সমসাময়িক সমাজের ভণ্ডামি, ব্রিটিশ অনুকরণ এবং দৈনন্দিন তুচ্ছ বিষয় (যেমন: আনারস, ইলিশ মাছ) নিয়ে কবিতা লিখে গদ্য ও পদ্যের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করেন।

৬৫. 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'র (১৮৩৬) প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

(ক) গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(গ) রাজা রামমোহন রায়

(ঘ) কালিনাথ রায়

উত্তর: (ক) গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ।

ব্যাখ্যা: এই সভাটি ছিল বাঙালির প্রথম সক্রিয় রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক সংগঠন যা বাংলা ভাষার অধিকার নিয়ে সরব হয়েছিল।

৬৬. 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকাটি কত সালে প্রথম বন্ধ হয়ে যায়?

(ক) ১৮৩০

(খ) ১৮৪১

(গ) ১৮৫০

(ঘ) ১৮৬০

উত্তর: (খ) ১৮৪১।

ব্যাখ্যা: দীর্ঘ সময় জনমত তৈরির পর আর্থিক সংকট ও মিশনের পরিবর্তনের কারণে ১৮৪১ সালে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।

​আধুনিক বাংলা গদ্যের ভিত্তি ও অন্যান্য

৬৭. 'প্রবোধ চন্দ্রিকা' (১৮৩৩) গ্রন্থে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার কয় প্রকার গদ্যরীতির নমুনা দেখিয়েছেন?

(ক) ১ প্রকার

(খ) ২ প্রকার

(গ) ৩ প্রকার

(ঘ) ৪ প্রকার

উত্তর: (গ) ৩ প্রকার।

ব্যাখ্যা: তিনি এই গ্রন্থে উচ্চমার্গীয় সংস্কৃতঘেঁষা গদ্য, সাধারণ চলিত গদ্য এবং গ্রাম্য বা কথ্য ভাষার গদ্য—এই তিনটিরই সফল প্রয়োগ দেখিয়েছেন।

৬৮. 'রাজাবলী' (১৮০৮) গ্রন্থে ভারতের প্রথম মুসলমান শাসক হিসেবে কার নাম উল্লেখ করা হয়েছে?

(ক) কুতুবউদ্দিন আইবেক

(খ) শাহাবুদ্দিন মুহম্মদ ঘুরী

(গ) বখতিয়ার খিলজী

(ঘ) আকবর

উত্তর: (খ) শাহাবুদ্দিন মুহম্মদ ঘুরী।

ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ফারসি ইতিহাসের সূত্রের ওপর ভিত্তি করে রাজাদের বংশানুক্রমিক বর্ণনা দেন।

৬৯. 'হিতোপদেশ' (১৮০৮) অনুবাদে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার কোন ভাষার শব্দ বেশি ব্যবহার করেছেন?

(ক) ফারসি

(খ) তদ্ভব

(গ) সংস্কৃত বা তৎসম

(ঘ) ইংরেজি

উত্তর: (গ) সংস্কৃত বা তৎসম।

ব্যাখ্যা: তাঁর গদ্যশৈলী ছিল পাণ্ডিত্যপূর্ণ এবং সংস্কৃত শব্দের ওপর নির্ভরশীল, যা তৎকালীন সিভিলিয়ানদের শেখার উপযোগী ছিল।

​নারী শিক্ষা ও জাগরণ

৭০. 'স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক' (১৮২২) পুস্তিকাটির রচয়িতা কে?

(ক) গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার

(খ) রামমোহন রায়

(গ) কেরি

(ঘ) বিদ্যাসাগর

উত্তর: (ক) গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার।

ব্যাখ্যা: নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এটিই ছিল বাংলার প্রথম দিকের একটি শক্তিশালী পুস্তিকা।

৭১. ১৮৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত 'বেথুন স্কুল' (বর্তমানে কলেজ) এর আদি নাম কী ছিল?

(ক) হিন্দু ফিমেল স্কুল

(খ) কলকাতা বালিকা বিদ্যালয়

(গ) ভিক্টোরিয়া স্কুল

(ঘ) শ্রীরামপুর স্কুল

উত্তর: (ক) হিন্দু ফিমেল স্কুল।

ব্যাখ্যা: জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন এবং বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় মূলত বর্ণ হিন্দু পরিবারের মেয়েদের আধুনিক শিক্ষা দিতে।

​সংবাদ ও সাংবাদিকতার বিকাশ (৭২-১০০)

৭২. 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার মাধ্যমে কোন লেখক বিজ্ঞান বিষয়ক গদ্যকে জনপ্রিয় করেন?

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(খ) অক্ষয় কুমার দত্ত

(গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

(ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র

উত্তর: (খ) অক্ষয় কুমার দত্ত।

ব্যাখ্যা: তাঁর লেখনীতেই প্রথম বাংলা গদ্যে জটিল বৈজ্ঞানিক তথ্য সহজ ভাষায় প্রকাশ পেতে শুরু করে।

৭৩. ১৮৩৭ সালে বাংলা ভাষা যখন আদালতের ভাষা হয়, তখন বড়লাট কে ছিলেন?

(ক) লর্ড বেন্টিঙ্ক

(খ) লর্ড অকল্যান্ড

(গ) লর্ড মেটকাফ

(ঘ) লর্ড ডালহৌসি

উত্তর: (খ) লর্ড অকল্যান্ড।

ব্যাখ্যা: লর্ড অকল্যান্ডের শাসনামলে ফারসি ভাষার পরিবর্তে বাংলা ও ইংরেজিকে আইনি দাপ্তরিক মর্যাদা দেওয়া হয়।

৭৪. 'সংবাদ ভাস্কর' (১৮৩৯) পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

(ক) গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

(গ) অক্ষয় কুমার দত্ত

(ঘ) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তর: (ক) গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ।

ব্যাখ্যা: তিনি 'গুড়গুড়ে ভট্টাচার্য' নামেও পরিচিত ছিলেন এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ গদ্যে রক্ষণশীল সমাজের সমালোচনা করতেন।

৭৫. 'বেঙ্গল গেজেট' (১৮১৮) কোন প্রেস থেকে মুদ্রিত হতো?

(ক) শ্রীরামপুর প্রেস

(খ) ফেরিস অ্যান্ড কোং

(গ) হিন্দুস্থানি প্রেস

(ঘ) সংস্কৃত প্রেস

উত্তর: (খ) ফেরিস অ্যান্ড কোং।

ব্যাখ্যা: এটি বাঙালির পরিচালিত প্রথম পত্রিকা যা একটি ইংরেজি প্রেস থেকে ছাপানো হতো।

৭৬. 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা কত বছর পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছিল?

(ক) ৫ বছর

(খ) ১০ বছর

(গ) ১৩ বছর

(ঘ) ২০ বছর

উত্তর: (গ) ১৩ বছর।

ব্যাখ্যা: ১৮৩১ থেকে ১৮৪৪ সাল পর্যন্ত এটি ইয়াং বেঙ্গলদের বলিষ্ঠ মুখপত্র ছিল।

৭৭. 'বোধোদয়' (১৮৫০) গ্রন্থে কোন বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে?

(ক) কাব্যরস

(খ) অতিপ্রাকৃত কাহিনী

(গ) বিজ্ঞান ও বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান

(ঘ) ধর্মীয় কাহিনী

উত্তর: (গ) বিজ্ঞান ও বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান।

ব্যাখ্যা: এটি শিশুদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল জাগিয়ে তোলার জন্য লিখিত প্রথম দিকের সার্থক পাঠ্যবই।

৭৮. ১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত 'সর্বশুভকরী সভা'র মূল লক্ষ্য কী ছিল?

(ক) রাজনৈতিক আন্দোলন

(খ) সমাজ কুসংস্কার দূর ও শিক্ষা প্রসার

(গ) কর আদায়

(ঘ) ধর্ম প্রচার

উত্তর: (খ) সমাজ কুসংস্কার দূর ও শিক্ষা প্রসার।

ব্যাখ্যা: এই সভার মাধ্যমে বিদ্যাসাগর ও তাঁর সহযোগীরা নারী শিক্ষা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতেন।

৭৯. 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের স্থায়িত্বকাল সাধারণত কোন সময় ধরা হয়?

(ক) ১৮০০-১৮২০

(খ) ১৮২৬-১৮৪০

(গ) ১৮৫০-১৮৬০

(ঘ) ১৮১০-১৮৩০

উত্তর: (খ) ১৮২৬-১৮৪০।

ব্যাখ্যা: ১৮২৬ সালে ডিরোজিওর হিন্দু কলেজে যোগদানের মাধ্যমে এর শুরু এবং ১৮৪০-এর দশকে এর প্রভাব স্তিমিত হতে থাকে।

৮০. বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয় কবে?

(ক) ১৮৩৯ সালের ২০ জুন

(খ) ১৮০০ সালের ৪ মে

(গ) ১৮৪৭ সালের ১ জানুয়ারি

(ঘ) ১৮৫০ সালের ১৬ আগস্ট

উত্তর: (ক) ১৮৩৯ সালের ২০ জুন।

ব্যাখ্যা: তাঁর অসাধারণ মেধার জন্য সংস্কৃত কলেজ এই উপাধি প্রদান করে।

অনুবাদ সাহিত্য ও বিদেশি পণ্ডিতদের অবদান

৮১. 'উপদেশ কথা' (১৮২০) গ্রন্থটি কার রচনা?

(ক) উইলিয়াম কেরি

(খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান

(গ) উইলিয়াম ওয়ার্ড

(ঘ) হেনরি ডিরোজিও

উত্তর: (ক) উইলিয়াম কেরি।

ব্যাখ্যা: উইলিয়াম কেরি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পাশাপাশি বাংলা গদ্যের প্রসারে অনেক কাজ করেছেন। 'উপদেশ কথা' মূলত নীতিমূলক গল্পের সংকলন যা ছাত্রদের নীতিশিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।

৮২. 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর ইংরেজি সংস্করণ 'Grammar of the Bengali Language' কত সালে প্রকাশিত হয়?

(ক) ১৮২৬

(খ) ১৮৩০

(গ) ১৮৩৩

(ঘ) ১৮৪০

উত্তর: (ক) ১৮২৬।

ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় প্রথমে ইংরেজিতে এই ব্যাকরণটি লিখেছিলেন ১৮২৬ সালে। পরে তাঁর মৃত্যুর বছর অর্থাৎ ১৮৩৩ সালে এটি বাংলায় 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' নামে প্রকাশিত হয়।

৮৩. শ্রীরামপুর ত্রয়ীর মধ্যে কে মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ এবং প্রেসের কারিগরি দিক দেখাশোনা করতেন?

(ক) উইলিয়াম কেরি

(খ) উইলিয়াম ওয়ার্ড

(গ) যশুয়া মার্শম্যান

(ঘ) ডেভিড হেয়ার

উত্তর: (খ) উইলিয়াম ওয়ার্ড।

ব্যাখ্যা: উইলিয়াম কেরি ছিলেন অনুবাদক এবং মার্শম্যান ছিলেন শিক্ষক। অন্যদিকে উইলিয়াম ওয়ার্ড ছিলেন মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ, যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস এশিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রেসে পরিণত হয়েছিল।

​সাময়িকপত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ

৮৪. 'বঙ্গদূত' পত্রিকা কয়টি ভাষায় প্রকাশিত হতো?

(ক) ২ টি

(খ) ৩ টি

(গ) ৪ টি

(ঘ) ৫ টি

উত্তর: (গ) ৪ টি।

ব্যাখ্যা: ১৮২৯ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও ফারসি—এই চারটি ভাষায় মুদ্রিত হতো। এটি তৎকালীন কলকাতার শিক্ষিত ও ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল।

৮৫. 'প্রবোধ চন্দ্রিকা' গ্রন্থটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর কত বছর পর প্রকাশিত হয়?

(ক) ১ বছর

(খ) ৫ বছর

(গ) ১৪ বছর

(ঘ) ২০ বছর

উত্তর: (গ) ১৪ বছর।

ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার মারা যান ১৮১৯ সালে, কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত 'প্রবোধ চন্দ্রিকা' মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

৮৬. রাজা রামমোহন রায়ের 'সহমরণ বিষয়' প্রস্তাবটি কোন প্রথার বিরুদ্ধে ছিল?

(ক) বাল্যবিবাহ

(খ) সতীদাহ প্রথা

(গ) বহুবিবাহ

(ঘ) অস্পৃশ্যতা

উত্তর: (খ) সতীদাহ প্রথা।

ব্যাখ্যা: ১৮১৮ সালে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম পুস্তিকাটি প্রকাশ করেন। এতে তিনি শাস্ত্রীয় প্রমাণের মাধ্যমে সতীদাহকে 'হত্যা' হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

​গদ্যের আধুনিকায়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

৮৭. 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) এর রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮৫০-এর আগে কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?

(ক) বেঙ্গল স্পেক্টেটর

(খ) জ্ঞানান্বেষণ

(গ) তত্ত্ববোধিনী

(ঘ) সংবাদ প্রভাকর

উত্তর: (ক) বেঙ্গল স্পেক্টেটর।

ব্যাখ্যা: ১৮৪২ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র 'বেঙ্গল স্পেক্টেটর' প্রকাশ করেন। এটি ইয়াং বেঙ্গলদের একটি প্রভাবশালী মুখপত্র ছিল এবং সমাজ সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রাখত।

৮৮. 'পাষণ্ড পীড়ন' পত্রিকার সাথে কার নাম যুক্ত ছিল?

(ক) গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

(গ) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

(ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: (খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তাঁর 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও রক্ষণশীলদের আক্রমণের উত্তর দিতে 'পাষণ্ড পীড়ন' নামে এই ব্যঙ্গধর্মী পত্রিকাটি প্রকাশ করতেন।

৮৯. 'দিগদর্শন' পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় কোন ঐতিহাসিক ঘটনাটি ছাপা হয়েছিল?

(ক) পলাশীর যুদ্ধ

(খ) কলম্বাস কর্তৃক আমেরিকা আবিষ্কার

(গ) ফরাসি বিপ্লব

(ঘ) ইংল্যান্ডের ইতিহাস

উত্তর: (খ) কলম্বাস কর্তৃক আমেরিকা আবিষ্কার।

ব্যাখ্যা: সাধারণ মানুষের জ্ঞান বাড়াতে ১৮১৮ সালে 'দিগদর্শন' এর প্রথম সংখ্যায় আমেরিকার আবিষ্কারের কাহিনী সচিত্র বর্ণনা করা হয়েছিল।

৯০. 'তত্ত্ববোধিনী' সভার মূল লক্ষ্য বা আদর্শ কী ছিল?

(ক) রাজনৈতিক স্বাধীনতা

(খ) আত্মতত্ত্ব ও পরমাত্মার জ্ঞান লাভ

(গ) খ্রিস্টধর্ম প্রচার

(ঘ) ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা

উত্তর: (খ) আত্মতত্ত্ব ও পরমাত্মার জ্ঞান লাভ।

ব্যাখ্যা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৩৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল উপনিষদের সত্য এবং একেশ্বরবাদী ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার করা।

​দ্রুত উত্তর ও ঐতিহাসিক তথ্য (৯১-১০০)

৯১. ১৮১৮ সালের 'সমাচার দর্পণ' কত দিন অন্তর প্রকাশিত হতো?

(ক) প্রতিদিন

(খ) সপ্তাহে একবার (সাপ্তাহিক)

(গ) মাসে একবার

(ঘ) ১৫ দিনে একবার

উত্তর: (খ) সপ্তাহে একবার (সাপ্তাহিক)।

৯২. রাজা রাধাকান্ত দেবের 'শব্দকল্পদ্রুম' অভিধানটি কত খণ্ডে সঙ্কলিত?

(ক) ৪ খণ্ডে

(খ) ৫ খণ্ডে

(গ) ৮ খণ্ডে

(ঘ) ১০ খণ্ডে

উত্তর: (গ) ৮ খণ্ডে।

ব্যাখ্যা: এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংস্কৃত অভিধান যা ১৮০৩ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে সঙ্কলিত হয়।

৯৩. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত রামরাম বসুর জন্মস্থান কোথায়?

(ক) চব্বিশ পরগনা

(খ) চুঁচুড়া

(গ) ঢাকা

(ঘ) নবদ্বীপ

উত্তর: (খ) চুঁচুড়া।

৯৪. 'তোতা ইতিহাস' এর মূল ফারসি রচয়িতা কে ছিলেন?

(ক) সৈয়দ মুজতবা আলী

(খ) খুশওয়ান্ত সিং

(গ) মাওলানা জিয়াউদ্দীন নখশবি

(ঘ) আমির খসরু

উত্তর: (গ) মাওলানা জিয়াউদ্দীন নখশবি।

ব্যাখ্যা: নখশবির 'তুতিনামা' থেকে চণ্ডীচরণ মুন্সী এটি অনুবাদ করেন।

৯৫. 'রাজাবলী' গ্রন্থে কত বছরের রাজবংশের ইতিহাস বর্ণিত আছে?

(ক) ৫০০ বছর

(খ) ৭০০ বছর

(গ) ১০০০ বছর

(ঘ) ১২০০ বছর

উত্তর: (খ) ৭০০ বছর।

৯৬. 'সারসংগ্রহ' (১৮৩৩) অক্ষয় কুমার দত্তের কোন ধরনের রচনা?

(ক) উপন্যাস

(খ) কবিতা সংকলন

(গ) বিবিধ জ্ঞান ও তথ্যের সারসংক্ষেপ

(ঘ) নাটক

উত্তর: (গ) বিবিধ জ্ঞান ও তথ্যের সারসংক্ষেপ।

৯৭. 'সর্বশুভকরী' পত্রিকাটির সম্পাদক মতিলাল চট্টোপাধ্যায়কে কারা সহযোগিতা করতেন?

(ক) বঙ্কিমচন্দ্র ও মধুসূদন

(খ) বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কার

(গ) রামমোহন ও দেবেন্দ্রনাথ

(ঘ) ডিরোজিও ও রিচার্ডসন

উত্তর: (খ) বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

৯৮. ১৮৫০ সালে প্রকাশিত বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ শিশুতোষ বই কোনটি?

(ক) বর্ণপরিচয়

(খ) কথামালা

(গ) বোধোদয়

(ঘ) আখ্যানমঞ্জরী

উত্তর: (গ) বোধোদয়।

ব্যাখ্যা: বর্ণপরিচয় প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালে, কিন্তু ১৮৫০ সালে 'বোধোদয়' শিশুদের জন্য বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানের প্রথম সার্থক বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।

৯৯. 'হিন্দু কলেজ' এর বর্তমান নাম কী?

(ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

(খ) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়

(গ) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

(ঘ) সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তর: (খ) প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০. আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রস্তুতির শেষ বছর কোনটি এবং এরপর কোন যুগের সূচনা হয়?

(ক) ১৮৫০; এরপর রবীন্দ্র যুগের সূচনা হয়

(খ) ১৮৫০; এরপর মধুসূদন-বঙ্কিম যুগের সূচনা হয়

(গ) ১৮৪৭; এরপর বিদ্যাসাগর যুগের সূচনা হয়

(ঘ) ১৮০০; এরপর গদ্য যুগের সূচনা হয়

উত্তর: (খ) ১৮৫০; এরপর মধুসূদন-বঙ্কিম যুগের সূচনা হয়।

ব্যাখ্যা: ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ছিল গদ্যের গঠন ও অনুবাদের সময়। ১৮৫১ সাল থেকে আধুনিক সাহিত্যের সৃজনশীল ধারা (উপন্যাস, মহাকাব্য, নাটক) প্রবলভাবে শুরু হয়।

উপসংহার। 

১৮০০-১৮৫০ সালের এই সময়কালটি ছিল বাংলা গদ্যের ভিত্তি গড়ার যুগ। এই পর্বে অর্জিত জ্ঞান ও ভাষার শৃঙ্খলা পরবর্তী আধুনিক সাহিত্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমাদের পরবর্তী আলোচনায় আমরা ১৮৫১ থেকে ১৯০০ সালের স্বর্ণযুগ নিয়ে কাজ করব, যেখানে মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য এবং বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ স্থান পাবে।


লাভ-ক্ষতির বিগত বিভিন্ন সরকারি চাকরি পরীক্ষায় প্রশ্ন ও সমাধান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন