সৃজনশীলে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার কৌশল।
![]() |
| সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর লেখার সহজ কৌশল । ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের পূর্ণাঙ্গ গাইড |
|
অংশ |
নম্বর |
প্যারা সংখ্যা |
লক্ষ্য |
কার কথা লিখবেন? |
লাইন সংখ্যা |
|
ক (জ্ঞান) |
১ |
১টি |
সরাসরি ১ লাইনে সঠিক উত্তর দেওয়া। |
শুধু বইয়ের তথ্য |
১ |
|
খ (অনুধাবন) |
২ |
২টি |
ব্যাখ্যা করা (১ম প্যারা: সারকথা, ২য় প্যারা: বিস্তারিত)। |
শুধু বইয়ের ব্যাখ্যা |
১+৩=৪ |
|
গ (প্রয়োগ) |
৩ |
৩টি |
মিল বা অমিল খুঁজে বের করা। |
বই + উদ্দীপকের তুলনা |
১+৩+৩=৭ |
|
ঘ (উচ্চতর) |
৪ |
৪টি |
মন্তব্যটির সত্যতা বিচার করে ফিনিশিং দেওয়া। |
বই + উদ্দীপক + নিজের মতামত |
১+৩+৩+৩=১০ |
উদ্দীপক: ধনী ব্যবসায়ী আসাদ সাহেব এক বিপন্ন পথিক সুমনকে ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে আসাদ সাহেব ব্যবসায় লোকসান করে চরম বিপদে পড়েন এবং পাওনাদারদের মামলায় জেলে যাওয়ার উপক্রম হয়। ঘটনাচক্রে সুমন এখন ওই এলাকার একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা। সে আসাদ সাহেবকে চিনতে পেরে তাঁর অতীতের উপকারের কথা স্মরণ করে এবং নিজের সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে তাঁকে এই আইনি বিপদ থেকে মুক্ত করে।
প্রশ্ন:
(ক) ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফা মামুনের বিশ্বস্ত অনুচরের নাম কী ছিল?
(খ) “আমার বিপদের সময় আপনিই একমাত্র রক্ষাকর্তা”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
(গ) উদ্দীপকের আসাদ সাহেব ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) “সুমন সাহেবের মানসিকতা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল ভাবার্থেরই প্রতিফলন”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
বিস্তারিত উদাহরণ ও উত্তর লেখার সহজ কৌশল
(ক) জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (১টি প্যারা, ১-২ লাইন)।
সহজ নিয়ম: কোনো ভূমিকা ছাড়া সরাসরি ১ লাইনে টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর লিখবেন।
যেমন:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফা মামুনের বিশ্বস্ত অনুচরের নাম ছিল আলি ইবনে আব্বাস।
(খ) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (২টি প্যারা, ৪-৫ লাইন)।
প্যারা ১ (জ্ঞান): প্রশ্নটি কেন বা কী অর্থে বলা হয়েছে তা ১ লাইনে লিখবেন।
প্যারা ২ (অনুধাবন): মূল বইয়ের আলোকে কথাটি ৩-৪ লাইনে বুঝিয়ে বলবেন (কোনো উদ্দীপকের কথা আসবে না)।
যেমন:
(প্যারা ১ - জ্ঞান): প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা দামেস্কের অধিবাসী তাঁর জীবন রক্ষার্থে আলি ইবনে আব্বাসের মহানুভবতা ও মহৎ প্রচেষ্টাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন।
(প্যারা ২ - অনুধাবন): খলিফা মামুনের বন্দি হিসেবে দামেস্কের অধিবাসী যখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন, তখন আলি ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছে তাঁর প্রাণভিক্ষা চান। নিজের পরম শত্রুর প্রাণ বাঁচাতে আলির এই নিঃস্বার্থ ও অসীম ব্যাকুলতা দেখেই বন্দি ব্যক্তিটি আলিকে তাঁর একমাত্র রক্ষাকর্তা বলেছিলেন।
(গ) প্রয়োগমূলক প্রশ্ন (৩টি প্যারা, ৮-১০ লাইন)।
প্যারা ১ (জ্ঞান): উদ্দীপকের চরিত্রের সাথে বইয়ের চরিত্রের মিলটি সরাসরি ১ লাইনে লিখবেন।
প্যারা ২ (পাঠ্যবই): বইয়ের মূল চরিত্রের গুণ বা বৈশিষ্ট্য ৩-৪ লাইনে লিখবেন।
প্যারা ৩ (তুলনা): উদ্দীপকের সাথে বইয়ের চরিত্রের মিলটি ৪-৫ লাইনে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেবেন।
যেমন:
(প্যারা ১ - জ্ঞান): উদ্দীপকের আসাদ সাহেব চরিত্রটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের পরম দয়ালু ও মহানুভব চরিত্র ‘দামেস্কের অধিবাসী’-এর প্রতিনিধিত্ব করেন।
(প্যারা ২ - পাঠ্যবই): ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত অধিবাসী অপরিচিত ও বিপন্ন বিদেশি পথিক আলি ইবনে আব্বাসকে নিজের পরম শত্রু জেনেও অবলীলায় নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন, পরম যত্নে সেবা করেন এবং বিদায়ের সময় তাঁর যাত্রাপথের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন।
(প্যারা ৩ - তুলনা): উদ্দীপকের আসাদ সাহেবের আচরণেও ঠিক একই রকম নিঃস্বার্থ পরোপকারী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এক বিপন্ন পথিক সুমনকে ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন, যা গল্পের দামেস্কের অধিবাসী চরিত্রের সেই মহানুভবতারই অনুরূপ। অন্যের বিপদে এভাবে এগিয়ে আসা এবং আশ্রয় দেওয়ার মানবিক গুণের দিক থেকে আসাদ সাহেব গল্পের দামেস্কের অধিবাসের যথার্থ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন (৪টি প্যারা, ১২-১৫ লাইন)।
প্যারা ১ (জ্ঞান): প্রশ্নে দেওয়া মন্তব্যটি সঠিক নাকি ভুল তা ১ লাইনে স্পষ্ট করে লিখবেন।
প্যারা ২ (পাঠ্যবই): গল্পের মূল ভাবার্থ বা মূল চেতনাটি সংক্ষেপে ৩-৪ লাইনে লিখবেন।
প্যারা ৩ (উদ্দীপক): উদ্দীপকের ঘটনা বা চরিত্রটি গল্পের ভাবার্থের সাথে কেন মিলছে, তা ৪-৫ লাইনে বিশ্লেষণ করবেন।
প্যারা ৪ (উপসংহার): উপরের আলোচনার রেশ ধরে ২-৩ লাইনে সিদ্ধান্ত টানবেন।
যেমন:
(প্যারা ১ - জ্ঞান): "সুমন সাহেবের মানসিকতা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল ভাবার্থেরই প্রতিফলন"— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং যৌক্তিক।
(প্যারা ২ - পাঠ্যবই): ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল ভাবার্থ হলো অতীতের উপকারের কথা মনে রেখে সুযোগ বুঝে কৃতজ্ঞচিত্তে সেই উপকারের প্রতিদান দেওয়া বা উপকারীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো। গল্পে আলি ইবনে আব্বাস খলিফার দরবারে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর অতীত আশ্রয়দাতার প্রাণ রক্ষা করে প্রত্যুপকারের এক অনন্য ও মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
(প্যারা ৩ - উদ্দীপক): উদ্দীপকের সুমনের মানসিকতাতেও এই মহৎ প্রত্যুপকার বা কৃতজ্ঞতাবোধের দিকটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। সুমন বড় হয়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পরও আসাদ সাহেবের অতীতের উপকারের কথা ভুলে যায়নি; বরং আসাদ সাহেব যখন ব্যবসায় লোকসান করে পাওনাদারদের মামলায় জেলে যাওয়ার মতো কঠিন বিপদে পড়েন, তখন সুমন নিজের সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে তাঁকে মুক্ত করে।
(প্যারা ৪ - উপসংহার): গল্প এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, উপকারভোগী ব্যক্তিরা বিপদের দিনে তাঁদের অতীত উপকারীর পরম ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সুতরাং, অতীতের উপকারের ঋণ স্বীকার করা এবং বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে প্রতি-উপকার করার এই মানসিকতা গল্পের মূল ভাবার্থকে শতভাগ ধারণ করায় মন্তব্যটি অনস্বীকার্য।
নিচে ৩ টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ১
উদ্দীপক: করিম ও রহিম দুই ভাই। একদিন এক অভাবী বিদেশি পথিক তাদের বাড়িতে আশ্রয় চায়। করিম তাকে তাড়িয়ে দিতে চাইলেও রহিম তাকে পরম যত্নে আশ্রয় দেয় এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে। কয়েক বছর পর, রহিম এক মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়ে চরম বিপদে পড়ে। ঘটনাচক্রে সেই বিদেশি পথিকটি এখন ওই এলাকার একজন প্রভাবশালী বিচারক। তিনি রহিমকে চিনতে পেরে তার পুরোনো উপকারের কথা স্মরণ করেন এবং অত্যন্ত সততার সাথে রহিমের নির্দোষিতা প্রমাণ করে তাকে মুক্তি দেন।
ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি কার রচনা?
খ. “আমার বিপদের সময় আপনিই একমাত্র রক্ষাকর্তা”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের রহিম ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি যেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল ভাবার্থেরই এক চমৎকার প্রতিফলন”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
(ক) ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচনা।
(খ) উক্তিটির প্রেক্ষাপট: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বিপদে পড়া আলি ইবনে আব্বাসের সেই মহান আশ্রয়দাতার।
খলিফার হাত থেকে বাঁচতে আলি একসময় দামেস্কের যাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তিনিই পরে বন্দি হন। আলি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির সুপারিশ করলে কৃতজ্ঞতায় তিনি আলিকে একমাত্র রক্ষাকর্তা বলেন।
(গ) উদ্দীপকের ‘রহিম’ চরিত্রটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলি ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা অর্থাৎ ‘দামেস্কের অধিবাসী’ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রাখা এক বিপন্ন বিদেশি পথিককে (আলি ইবনে আব্বাস) পরম আদরে নিজের বাড়িতে আশ্রয় ও খাবার দিয়েছিলেন। এমনকি বিদায়ের সময় তিনি সেই পথিকের যাত্রাপথের সমস্ত খরচও জোগাড় করে দেন।
উদ্দীপকের রহিমও ঠিক একইভাবে এক অভাবী বিদেশি পথিককে পরম যত্নে আশ্রয় ও সেবা দেয়, যা করিম দিতে চায়নি। নিঃস্বার্থভাবে অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার এই মানবিক গুণের কারণে রহিম চরিত্রটি দামেস্কের সেই মহানুভব ব্যক্তিরই প্রতীক হয়ে উঠেছে।
(ঘ) উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল ভাবার্থ তথা "উপকারের বিপরীত উপকার বা কৃতজ্ঞতাবোধ"-কে ধারণ করেছে, তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল শিক্ষা হলো— অতীতে কেউ উপকার করলে সুযোগ বুঝে তার সেই উপকারের ঋণ শোধ করা এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো।
গল্পে দামেস্কের অধিবাসী আলি ইবনে আব্বাসকে আশ্রয় দিয়ে যে উপকার করেছিলেন, আলি পরে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছ থেকে তাঁর মুক্তি এনে দিয়ে সেই উপকারের ঋণ শোধ করেন। উদ্দীপকের রহিমও অতীতে এক অভাবী পথিককে আশ্রয় দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই পথিক বিচারক হয়ে রহিমের বিপদে তাকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করে প্রত্যুপকার করেন।
সুতরাং, গল্প ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতাবোধ এবং উপকারের ঋণ স্বীকার করার বিষয়টি সমানভাবে ফুটে উঠেছে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল ভাবার্থেরই এক চমৎকার প্রতিফলন।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ২
উদ্দীপক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সোবহান সাহেব নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে এক আহত মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার বহু বছর পর সোবহান সাহেব এক জটিল রোগে আক্রান্ত হন, যার চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন ছিল। টাকার অভাবে যখন তাঁর চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন সেই পুরোনো মুক্তিযোদ্ধা—যিনি এখন দেশের একজন নামকরা শিল্পপতি—ঘটনাটি জানতে পারেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সোবহান সাহেবের সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং তাঁকে সুস্থ করে তোলেন।
ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দটির অর্থ কী?
খ. “এই ব্যক্তি আমার পরম শত্রু”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের সোবহান সাহেব ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “শিল্পপতির ভূমিকাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল শিক্ষাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়”— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
(ক) ‘প্রত্যুপকার’ শব্দটির অর্থ হলো— উপকারের বদলে উপকার করা বা প্রতি-উপকার।
(খ) উক্তিটির প্রেক্ষাপট: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের খলিফা মামুনের অতি বিশ্বস্ত অনুচর আলি ইবনে আব্বাসের।
খলিফা মামুন তাঁর এক বন্দি শত্রুকে হত্যা করার জন্য আলি ইবনে আব্বাসের জিম্মায় রেখেছিলেন। পরে আলি যখন আবিষ্কার করেন যে এই বন্দিটিই অতীতে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিল, তখনই তিনি উক্তিটি করেছিলেন।
(গ) উদ্দীপকের সোবহান সাহেব চরিত্রটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলি ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা অর্থাৎ সেই ‘দামেস্কের অধিবাসী’ চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রাখা এক বিপন্ন বিদেশি পথিককে (আলি ইবনে আব্বাস) শত্রু জেনেও পরম আদরে নিজের বাড়িতে আশ্রয় এবং খাবার দিয়েছিলেন।
উদ্দীপকের সোবহান সাহেবও ঠিক একইভাবে একাত্তরে নিজের জীবন বাজি রেখে এক আহত মুক্তিযোদ্ধাকে পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। নিঃস্বার্থভাবে বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় ও জীবন রক্ষা করার এই যে পরম মানবিক গুণ, তা উদ্দীপকের সোবহান সাহেব এবং গল্পের দামেস্কের অধিবাসী— দুজনের মধ্যেই সমানভাবে বিদ্যমান থাকায় চরিত্র দুটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ) উদ্দীপকের শিল্পপতির ভূমিকাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল শিক্ষা তথা "উপকারের ঋণ স্বীকার ও কৃতজ্ঞতাবোধ"-কে ধারণ করায় মন্তব্যটি যথার্থ।
‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল শিক্ষা হলো— কেউ অতীতে কোনো উপকার করলে সুযোগ বুঝে তার সেই উপকারের ঋণ শোধ করা।
গল্পে দামেস্কের অধিবাসী যখন খলিফার হাতে বন্দি হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হন, তখন আলি ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করে পুরোনো উপকারের ঋণ শোধ করেন। উদ্দীপকের শিল্পপতিও অতীতে সোবহান সাহেবের কাছে জীবন ফিরে পেয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সোবহান সাহেবের কঠিন অসুস্থতার দিনে তাঁর সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে সেই উপকারের প্রত্যুপকার করেন।
সুতরাং, গল্প ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই অতীতের ভালো কাজের প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতাবোধের মহান চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, শিল্পপতির ভূমিকাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল শিক্ষাকেই চমৎকারভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ৩
উদ্দীপক: ধনাঢ্য ব্যক্তি আসলাম সাহেব একদিন তাঁর অফিসের সামনে এক যুবককে ছিনতাইকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন এবং তাকে কিছু টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এর কয়েক বছর পর, ব্যবসায়িক ধসের কারণে আসলাম সাহেব নিঃস্ব হয়ে পড়েন এবং পাওনাদারদের মামলায় জেলে যাওয়ার উপক্রম হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে সেই যুবকটি—যে এখন একটি বড় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—আসলাম সাহেবের পাশে এসে দাঁড়ায়। সে নিজের জমানো টাকা দিয়ে আসলাম সাহেবের সমস্ত দেনা শোধ করে তাঁকে এই চরম বিপদ থেকে মুক্ত করে।
ক. আলি ইবনে আব্বাস কার বিশ্বস্ত অনুচর ছিলেন?
খ. “তুমি অবিলম্বে এখান হইতে প্রস্থান কর”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের যুবকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন চরিত্রের আচরণের দিকটি প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “আসলাম সাহেবের পরিণতি এবং মুক্তি যেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বন্দি অধিবাসীর কাহিনীরই নতুন রূপ”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
(ক) আলি ইবনে আব্বাস বাগদাদের খলিফা মামুনের বিশ্বস্ত অনুচর ছিলেন।
(খ) প্রশ্নোক্ত উক্তিটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কৃতজ্ঞ ও মহানুভব চরিত্র আলি ইবনে আব্বাসের।
খলিফার বন্দি শত্রুটিই যে আলির পুরোনো জীবনদাতাই ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর আলি তাঁকে মুক্ত করে দেন। খলিফা যদি জানতে পারেন তবে ওই ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটবে— এই আশঙ্কায় আলি তাঁকে দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেছিলেন।
(গ) উদ্দীপকের যুবকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কৃতজ্ঞ ও মহানুভব চরিত্র আলি ইবনে আব্বাসের আচরণের দিকটি প্রকাশ করে।
গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের অধিবাসী যখন খলিফার হাতে বন্দি হন, তখন আলি ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান এবং খলিফার কাছে তাঁর মুক্তির সুপারিশ করেন।
উদ্দীপকের যুবকটিও ঠিক একইভাবে অতীতে আসলাম সাহেবের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্যের কথা ভুলে যায়নি। আসলাম সাহেব যখন ব্যবসায়িক ধসে পড়ে দেনার দায়ে জেলে যাওয়ার উপক্রম হন, তখন যুবকটি নিজের জমানো টাকা দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ায়। পুরোনো উপকারের কথা স্মরণ করে বিপদের দিনে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার এই আচরণটি মূলত আলি ইবনে আব্বাসের চরিত্রের দিকটিই প্রকাশ করে।
(ঘ) আসলাম সাহেবের বিপদগ্রস্ত হওয়া এবং যুবকটির মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার ঘটনাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বন্দি অধিবাসীর কাহিনীরই নতুন রূপ— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দেখা যায়, একসময়ের ধনী ও আশ্রয়দাতা দামেস্কের অধিবাসী ভাগ্যের পরিহাসে বন্দি হয়ে খলিফা মামুনের দরবারে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন।
সেখানে অতীতে তাঁর আশ্রয়ে থাকা আলি ইবনে আব্বাসের মহানুভবতায় এবং খলিফার দয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত জীবন ও মুক্তি ফিরে পান। উদ্দীপকের আসলাম সাহেবও একসময় ধনাঢ্য ও উদ্ধারকর্তা ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে ব্যবসায়িক ধসের কারণে তিনিও দেনার দায়ে জেলে যাওয়ার চরম বিপদে পড়েন। গল্পের বন্দির মতোই, আসলাম সাহেবও অতীতে তাঁর দ্বারা উপকৃত যুবকের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত এই কঠিন বিপদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হন।
সুতরাং, দুই কাহিনীর প্রেক্ষাপট ও উত্তরণের পথ হুবহু এক ও অভিন্ন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আসলাম সাহেবের চরম পরিণতি এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনাটি যেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বন্দি অধিবাসীর কাহিনীরই এক আধুনিক রূপ।
আরো দেখুন
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'প্রত্যুপকার' গল্পের বিস্তারিত সৃজনশীল সমাধান সহ (৯ম-১০ম শ্রেণি)
প্রত্যুপকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর লেখক পরিচিতি : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ( সংক্ষিপ্ত ) বিষয় তথ্য উপাধি বিদ্যাসাগর ( প্রচলিত জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের জন্য এই উপাধি লাভ করেন ) ।…
প্রত্যুপকার গল্পের কাহিনী ।। ৯ম-১০ম।। বাংলা ১ম পত্র।।
প্রত্যুপকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর লেখক পরিচিতি : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ( সংক্ষিপ্ত ) বিষয় তথ্য উপাধি বিদ্যাসাগর ( প্রচলিত জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের জন্য এই উপাধি লাভ করেন ) ।…
